২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশের স্বর্ণের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে গত তিন মাসে মোট ৫০ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করেছে বাজুস, যা দেশের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড। গত বছরের একই সময়ে যেখানে মাত্র ১৭ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, এবার তা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
বাজুসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই ৯০ দিনের মধ্যে:
দাম বাড়ানো হয়েছে: ২৯ বার।
দাম কমানো হয়েছে: ২১ বার।
তিন মাস শেষে প্রতি ভরিতে নিট দাম বেড়েছে ২০ হাজার ৫২৯ টাকা।
বছরের শুরুতে কিছুটা দাম কমলেও ২৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে স্বর্ণের দাম। এদিন এক লাফে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেটের ভরি দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। তবে ঠিক পরের দুই দিনেই ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমিয়ে বড় চমক দেয় বাজুস।
এই মাসে ১৫ বার দাম সমন্বয় করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি এক দিনেই দুই দফায় ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। মাস শেষে ২২ ক্যারেটের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকায়।
মার্চ মাসে ১৬ বার দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। মাসের মাঝামাঝিতে টানা সাত দফায় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছিল এবং দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায় নেমে আসে। তবে মাসের শেষ দিকে আবারও দাম বাড়তে শুরু করে।
সর্বশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দ্রুততম সময়ে বারবার দাম পরিবর্তনের ফলে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা—উভয় পক্ষই বিপাকে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঘন ঘন উত্থান-পতন এবং ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতার কারণেই স্থানীয় বাজারে এতবার সমন্বয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মূল্যবান এই ধাতু।

