আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দাম আবারও বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনে কিছুটা উত্থানের পরও শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্ব শেয়ারবাজারে অস্থিরতার কারণে স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বড় ব্যবধানে কমেছে।
স্বর্ণ:স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কমেছে ০.৭% এবং প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে ৪,৭৩৫.৯৯ ডলার। মার্কিন ফিউচার মূল্য ২.৮% হ্রাস পেয়ে ৪,৭৫২.৪০ ডলারে নেমেছে।
রূপা:রুপার দাম ৩.২% কমে প্রতি আউন্সে ৬৮.৯৭ ডলার হয়েছে। এর আগে মাত্র এক সেশনে রুপা ১৯% কমেছিল।
প্লাটিনাম:৩.৬% হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্সে ১,৯১৬.৪৫ ডলারে নেমেছে।
প্যালাডিয়াম:ব্যতিক্রম হিসেবে কিছুটা বেড়ে ১,৬৩৮.২৫ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্বব্যাপী ইকুইটি সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিশাল বিনিয়োগের চাপ বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে। মার্কিন ট্রেজারির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণের মতো ধাতুর দাম কমাতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের দুর্বল তথ্যও এই পরিস্থিতির পেছনে দায়ী। ডিসেম্বরের শেষে চাকরির সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার কমে ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন ২০২৬ সালে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে, যা সাধারণত অ-ফলনশীল সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ায়।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাও ধাতুর বাজারে প্রভাব ফেলেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে কূটনৈতিক ও সামরিক বিকল্প উভয়ই প্রভাব ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

