২২ বছর পর প্রথমবারের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছে আর্সেনাল। অবনমনের লড়াইয়ে থাকা নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে মিকেল আর্তেতার দল। এই ফলাফল শিরোপা দৌড়ে আর্সেনালের জন্য একদিকে যেমন হতাশার, অন্যদিকে ফরেস্টের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
ম্যাচের আগে আর্সেনাল শিবিরে ছিল বাড়তি অনুপ্রেরণা। ডার্বি ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির হার গানারদের সামনে লিগ টেবিলে নয় পয়েন্টের লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় লন্ডনের ক্লাবটি। এর আগেও সিটির পয়েন্ট হারানোর সুযোগে লিভারপুলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল আর্সেনাল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ফরেস্টের বিপক্ষেও তারা গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দৃঢ় ও সংগঠিত ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিক নটিংহ্যাম ফরেস্ট। অবনমনের শঙ্কায় থাকা দলটি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখায়। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই নিকোলাস ডমিঙ্গেজের একটি শক্তিশালী শট ডেকলান রাইস ঝাঁপিয়ে ঠেকান। এরপর ক্যালাম হাডসন-ওডোই অল্পের জন্য মুরিলোর থ্রু বল ধরতে ব্যর্থ হন, যা আর্সেনালের রক্ষণে চাপ তৈরি করে।
আর্সেনাল বলের দখল রাখলেও আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে পাওয়া সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন, বল পাঠান লক্ষ্যভ্রষ্টভাবে বাইরে। ৪০ মিনিটে নিজের আগের ভুল শুধরে নিয়ে ফরেস্ট ডিফেন্ডার মুরিলো দুর্দান্ত ট্যাকেলে ভিক্টর গিয়োকেরেসকে নিশ্চিত গোল থেকে বাঁচান। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে দলের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট মিকেল আর্তেতা বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। মার্টিনেলিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান বুকায়ো সাকা, সঙ্গে গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও মিকেল মেরিনোকেও আক্রমণে যুক্ত করেন। সাকার মাঠে নামার পর আর্সেনালের আক্রমণে গতি আসে। তার একটি নিখুঁত ক্রসে ডেকলান রাইসের ভলি সহজেই ধরে নেন ফরেস্ট গোলরক্ষক মাতজ সেলস। পরে রাইসের ক্রস থেকে সাকার হেডার দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে ঠেকান সেলস, যা ফরেস্টকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।
ম্যাচের শেষভাগে আর্সেনাল একের পর এক আক্রমণ চালালেও ফরেস্টের রক্ষণভাগ দৃঢ়ভাবে তা সামাল দেয়। শেষদিকে ওলা আইনাহর একটি হ্যান্ডবলের ঘটনায় আর্সেনাল পেনাল্টির দাবি জানায়। ভিএআর রিভিউ হলেও রেফারি শেষ পর্যন্ত কোনো পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে গানার শিবির।
শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা না পেয়ে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে। এই ড্রয়ের ফলে আর্সেনালের লিগ টেবিলে লিড সাত পয়েন্টে দাঁড়ালেও, রোববার অ্যাস্টন ভিলা যদি এভারটনকে হারাতে পারে, তবে সেই ব্যবধান কমে চার পয়েন্টে নেমে আসতে পারে। তবুও ২০০৪ সালের পর প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি জয়ের দৌড়ে আর্সেনাল এখনো ফেভারিট হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
তবে শীর্ষে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পয়েন্ট হারানো আর্সেনাল শিবিরে দুশ্চিন্তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে আট পয়েন্ট এগিয়ে থেকেও শিরোপা হাতছাড়া করার তিক্ত স্মৃতি এখনো ভোলেনি ক্লাবটি।
অন্যদিকে, এই এক পয়েন্ট নটিংহ্যাম ফরেস্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবনমন লড়াইয়ে থাকা দলটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পয়েন্ট আদায় করে কিছুটা স্বস্তি পেল। ম্যাচের দৃঢ় রক্ষণ ও সংগঠিত পারফরম্যান্স ফরেস্টের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই গোলশূন্য ড্র প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান ও অবনমন—দুই দিকের লড়াইয়েই বড় প্রভাব ফেলেছে, যেখানে শিরোপা দৌড় যেমন আরও জমে উঠেছে, তেমনি নিচের দিকের লড়াইও হয়ে উঠেছে আরও কঠিন।

