মো: রওকত আলী, রংপুর সদর প্রতিনিধি :
রংপুরের জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙা আম বাগানের প্রতিটি গাছে এখন ভরপুর মুকুলে। বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা।
এবারও প্রায় দু’ হাজার হেক্টর জমিতে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাম্পার ফলন হবে, দাবি এক আম বাগান মালিক সাদ্দাম হোসেনের(৩৫)।
সোমবার দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম গ্রামের সাদ্দাম হোসেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র ধরে জানান, বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার প্রায় দু’ হাজার হেক্টর জমির উপর হাঁড়িভাঙা আম বাগানের প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে মুকুল।
এসব মুকুলের মনমুগ্ধকর গন্ধে প্রাণ জুড়ায় আম চাষিদের। কোনও প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদি না হয় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে এবারও আমের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
এ সময় কথা হয়, মোহাম্মদ লাদেন মিয়া(২৮), ওমর ফারুক(৩৫), আব্দুল খালেক(৬০) ও মমিনুল ইসলামের(৪৮) সাথে।
তারা জানান, জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙা আম বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে জার্মান,ভারত,ভুটান, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।
এজন্য এখানকার আম চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক লেগেই আছে। সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত আঁশবিহীন হাঁড়িভাঙা আমের কদর বেশি। কালচে সবুজ বা হালকা হলুদ রঙ্গের হাঁড়িভাঙ্গা আমে ঔষধি গুণাবলীও রয়েছে।
আঁশবিহীন মিষ্টি ও রসালো প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি,এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হাঁড়িভাঙা আম। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হজমে সহায়তা করে,ত্বক উজ্জ্বল রাখে।হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং আঁশ কম হওয়ায় পেট ঠান্ডা রাখে।
ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়ে জানুয়ারি – ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মুকুল আসে। পরিচর্যা ও স্প্রে করা হলে ফলন ভালো হয়, দাবি আম চাষীদের।
‘হাঁড়িভাঙা’ আম সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে বাজারে আসা শুরু হয়। এরপর, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়।

