গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় নেতার পক্ষ থেকে এক বিরল ধর্মীয় ফরমান বা ফতোয়া জারি করা হয়েছে। এই ফতোয়াতে বলা হয়েছে যে, সমস্ত মুসলিম এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং সাধারণ জনগণের উপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, এবং সেসব দেশের নীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য অনেকেই চাপ সৃষ্টি করছে।
এদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রভাবশালী কুর্দি সুন্নি ইসলাম পণ্ডিত শেখ আলী আল-কারাদাঘি, যিনি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (আইইউএমএস) মহাসচিব এবং ইসলামি অর্থনীতি ও শরিয়া বিশেষজ্ঞ। তিনি গাজার মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আক্রমণের নিন্দা করে এবং ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষ থেকে এক ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ধরনের ফতোয়া সাধারণত ইসলামিক আইন, শরিয়া এবং ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জারি করা হয়, যেখানে একজন মুসলিম পণ্ডিত বা স্কলার একটি ধর্মীয় রায় প্রদান করেন। ফতোয়ায় ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া, তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র বিক্রি বা অন্য যেকোনোভাবে সহায়তা করা নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আরও দাবি করা হয়েছে যে, মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
এছাড়া, শেখ আলী আল-কারাদাঘি তার ফতোয়ায় আরো বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের সমর্থন জরুরি, এবং যারা ইসরায়েলকে কোনো ধরনের অস্ত্র বা সহায়তা প্রদান করবে তাদের জন্য কঠোর ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, মুসলিম দেশগুলোকে একত্রিত হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, বিশেষত আন্তর্জাতিক জলপথে অস্ত্র সরবরাহ নিষিদ্ধ করতে হবে।
এটি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে ধর্মীয় নেতারা তাদের অনুসারীদের জন্য একটি স্পষ্ট রায় দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক, সামরিক, এবং মানবিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।