বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে সেখান থেকে উত্তোলিত গ্যাস ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডে ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আগের সরকার বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষ আবার মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের পথে এগোচ্ছে। “বাংলাদেশের মানুষ আবার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে চলেছে,”—বলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর যারা জনগণের অধিকার হরণ করেছে, তাদের সহযোগীরা এখনো ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, নকল সিল তৈরির সময় তাদের লোকজন আটক হওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে—ষড়যন্ত্র থেমে নেই।
ঢাকা-৫ আসনের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা ষড়যন্ত্র না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, “ফজরের নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেবেন। শুধু ভোট দিয়ে চলে আসবেন না, ভোটের ফল নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরবেন।”
দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নীতির লাগাম টানতে সক্ষম। অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার সময় বাংলাদেশ দুর্নীতির তালিকায় থাকলেও ২০০৬ সালে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সুশাসন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই অবস্থান থেকে দেশকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছিল।

