জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ও নির্বাচনের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবস্থান করে দল পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কৌশল সাজাচ্ছেন। দিল্লি ও কলকাতার বিভিন্ন গোপন ডেরা থেকে তারা দেশের ভেতরে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় বৈঠক করছেন। কলকাতা থেকে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ প্রভাবশালী নেতাদের দিল্লিতে ডেকে এনে নিয়মিত কৌশলগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তারা ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা বর্জনের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের মতে, তাদের ছাড়া এই নির্বাচনের কোনো ‘গণতান্ত্রিক বৈধতা’ থাকবে না।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তিনি ভারত থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখন পর্যন্ত তা উপেক্ষা করে আসছে। সম্প্রতি দিল্লিতে এক সমাবেশে হাসিনার বক্তব্যকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘জনগণের প্রতি অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৬০০ নেতার দাবি, দেশে ফিরলে তারা প্রাণনাশের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় স্বীকার করেছেন যে, অতীতে দল কিছুটা কর্তৃত্ববাদী ছিল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। তবে তাদের আশা, আসন্ন নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচনকে গত এক দশকের মধ্যে প্রথম ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচন হিসেবে দাবি করছে। তবে আওয়ামী লীগ একে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, হাসিনার শাসনামলের গুম, নির্যাতন ও গোপন বন্দিশালার (আয়নাঘর) ভয়াবহ তথ্য সামনে আসায় জনমনে এখনো তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যদিও বর্তমান সরকারের সময়কালে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কিছু সমালোচনা রয়েছে।
ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও ভারতের মাটি থেকে আওয়ামী লীগের এই ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশে এক ধরনের অদৃশ্য চাপ ও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

