রান উপকূলে হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত খারগ দ্বীপ–এর সামরিক স্থাপনায় অতর্কিত বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল –এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, ইরানের ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
CNN–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খারগ দ্বীপ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল। দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবিরাম হামলা যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিএনএনকে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, খারগ দ্বীপে হামলার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যেতে পারে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মার্ক কিমিট বলেন, সেখানে মার্কিন হামলার অর্থ হলো এই যুদ্ধে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি এখন আর শুধু সামরিক বাহিনী বা সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইরানের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্বীপটিকে এক ধরনের ‘জিম্মি’ অবস্থায় রাখা হয়েছে।
কিমিট আরও সতর্ক করে বলেন, যদি তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তাহলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান উপকূল থেকে প্রায় পাঁচ মাইল দূরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ দিয়েই দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রথম দুই সপ্তাহে দ্বীপটি অক্ষত ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল।

