ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন হুঁশিয়ারি এবং ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া বার্তায় ইরানকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করা হলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ইরান যদি এই পথ উন্মুক্ত না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করবে।
এদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, ইরানে তাদের চলমান সামরিক অভিযান এখনই থামছে না। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মতে, এই সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে মোড় নিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রোববার রাতে আন্তর্জাতিক বাজার খোলার পরপরই তেলের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
ডব্লিউটিআই (WTI): মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মে মাসের ডেলিভারি মূল্য প্রায় ১.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে।
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩.৪৪ ডলারে পৌঁছায়। যদিও পরে লেনদেনের এক পর্যায়ে তা কিছুটা কমে ১১১ ডলারের আশেপাশে থিতু হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার আগে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ছিল মাত্র ৬৭.০২ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ৭২.৪৮ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের কম সময়ে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এই পথটি আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বন্ধ রাখায় সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকি এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি (যেখানে ইরান বলেছে হামলা হলে তারা এই পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেবে) বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আজ সোমবার রাতে (জিএমটি সময় ২৩:৪৪) শেষ হওয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সমাধান না এলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দাম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

