আবু জাফর বিশ্বাস বরিশাল
মাঠ কাঁপানো ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান। জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুরের পর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ভোলা–৩ (লালমোহন ও তজুমদ্দিন) আসনের সাতবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জন্ম ও শিক্ষাঃ
১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ছিলেন এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালের ১ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানঃ
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় খেতাব ‘বীর বিক্রম’ লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর-খুলনা অঞ্চলে বিভিন্ন যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৩০ মার্চ ১৯৭১ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্টে তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং দীর্ঘ সময় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তীতে কামালপুর বিওপি আক্রমণসহ একাধিক যুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং সিলেট অঞ্চলেও যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনঃ
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্যঃ
রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়ক ছিলেন। এছাড়া ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব অর্জন করেন।
পারিবারিক জীবনঃ
তার স্ত্রী দিলারা হাফিজ শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

