কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে বাধ্য হয়ে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক জন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা দিতে পারছে না বিসিসিআই, তাদের মতে, পুরো দলের নিরাপত্তা কেমন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের চারটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে তিনটি কলকাতায়।
সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক মোস্তাফিজ ও বিশ্বকাপ ইস্যু নিয়ে বলেছেন, “সামনে বিশ্বকাপ, আমাদের ক্রিকেটাররা ভারতে গেলে নিরাপত্তার শঙ্কা থেকে যায়। এই শঙ্কা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে, বোর্ড ও সরকারের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম। দ্রুত আলোচনা করে কীভাবে সুরাহা করা যায় তা দেখুন।”
বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে জানানো হয়েছে, “মোস্তাফিজ খেলায় মেধা, দেশের সীমানা নয়। সুযোগ হয়তো কেড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু সম্মান মাঠেই অর্জন করতে হয়। আমরা মোস্তাফিজের পাশে আছি।”
জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, “খেলা আর রাজনীতি একত্রিত হওয়া উচিত নয়। বিসিসিআই যে কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছাড়তে বলেছে, সেটা শুনে অবাক হয়েছি। সত্যিই খারাপ লেগেছে।”
কোচ রাজিন সালেহ যোগ করেছেন, “যদি এক জন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে পুরো বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক খেলা খেলতে গেলে কী হবে, বোঝা যায় না। মোস্তাফিজ আমাদের প্রাণ, আমাদের ব্র্যান্ড। এইভাবে তাকে বাদ দেওয়া দেশের জন্য অপমানজনক।”
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এ ধরনের ‘উগ্র রাষ্ট্র’কে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। সরকার ও বিসিবি মিলিয়ে ভারতকে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের জন্য অনুপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। বাংলাদেশে ৫ আগস্টের পরেও ভারতীয়রা নিরাপদভাবে অংশগ্রহণ করেছে।”
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, “বিশ্বকাপের জন্য ভারতে দল পাঠানো এবং মোস্তাফিজের বিষয় নিয়ে আইসিসির সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
মোস্তাফিজ ইস্যু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা এবং বিশ্বকাপ আয়োজনের ভেন্যু নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

