লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের কাছে রহমতখালী খালে পড়ে যায় ‘আনন্দ পরিবহনের’ বাসটি। এতে পাঁচজন যাত্রী নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে আছেন সদর উপজেলার শেখপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন (৫৭), মোরশেদ আলম (৪০), মো. মাজেদ (৩০), মো. রিপন (৪০) এবং নওগাঁর হুমায়ুন কবির। হুমায়ুন কবির চন্দ্রগঞ্জ লতিফপুর এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন এবং একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটি লক্ষ্মীপুরের পথে দুর্ঘটনায় পড়ে খালে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে প্রায় ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো উদ্ধারকাজ শুরু হলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হতো।
উদ্ধারকাজ চলাকালে প্রায় এক ঘণ্টা লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়জুল আজীম নোমান জানিয়েছেন, পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এক মাস আগেই একই খালে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই স্থান থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে।

