দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে এবং ভয়াবহ সংঘাতের পর অবশেষে সরাসরি আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার এই বৈঠক আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনার শুরুটা হয়েছে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে।
ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরাও উপস্থিত ছিলেন। সরাসরি আলোচনার পর প্রতিনিধিরা পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নেন। জানা গেছে, বৈঠকের পরিবেশ ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং গঠনমূলক।
একটি সূত্র অনুযায়ী, শনিবারের প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর আগামীকাল রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে পুনরায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হবে।
গত ৮ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ঘোষণায় জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি ইরানের ওপর আক্রমণ ও বোমা হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করছেন।
এই ঘোষণার পরই পাকিস্তান সরকার দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার তোড়জোড় শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বার্তায় বলেন, “গভীর বিনয়ের সঙ্গে আমি আনন্দের সংবাদ জানাচ্ছি যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।”
আল-জাজিরা ও বিবিসি উর্দুর খবর অনুযায়ী, বৈঠকে ইরান আলোচনার ভিত্তি হিসেবে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম দফার এই আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলোর প্রাথমিক বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে। যদিও রুদ্ধদ্বার বৈঠক হওয়ায় আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
পুরো বিশ্ব এখন ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে। রোববার দ্বিতীয় দিনের আলোচনা থেকে স্থায়ী কোনো শান্তিচুক্তির রূপরেখা বা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো ঘোষণা আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

