আবু জাফর বিশ্বাস,বরিশাল ব্যুরো :
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে সরাসরি কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও রোগী সরিয়ে নেওয়ার সময় অক্সিজেন সংকটে দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তবে এ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি ফায়ার সার্ভিস।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডের এক কোণায় রাখা ফোম, বেডশিট ও বালিশে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো ওয়ার্ড। এ সময় রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীরা দ্রুত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভাতে গিয়ে চার আনসার সদস্যসহ অন্তত ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
স্বজনদের দাবি, পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার কাজী আতাউর রহমান (৮০) ও বরিশাল সদরের আবুল হোসেন (৬৭) অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন। কাজী আতাউর রহমানের পুত্রবধূ জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামানো হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন থাকা সত্ত্বেও তা সময়মতো দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে আবুল হোসেনের ছেলে জানান, আগুনের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনি তার বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১০০ রোগীকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি অংশে আগুনের সূত্রপাত হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরিশাল স্টেশনের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফরী জানান, দাহ্য ফোম ও বেডশিট থাকার কারণে ধোঁয়া বেশি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে। আগুনের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি; বিড়ি-সিগারেট বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

