মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় সিনেমার মতো কায়দায় কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারতীয় চলচ্চিত্র K.G.F: Chapter 1–এর দৃশ্যের মতো সংঘবদ্ধভাবে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, গত দুই বছরে কয়েক শ কোটি টাকার মাটি বিক্রি করেছে একাধিক চক্র।
অভিযোগের পর মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য Sheikh Abdullah ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। তাঁর নির্দেশনার পর পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি কাটা ও বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নির্দেশে এবং সিরাজদিখান থানার ওসি আব্দুল হান্নানের তত্ত্বাবধানে সোমবার সকালে অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—সুমন সরকার (৪৫), সুপন সরকার (৩৫), মনা (৪৮) ও রাজন (২৫)। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী সীমা বেগম জানান, তাঁর পৈতৃক ৭১ শতাংশ কৃষিজমি ভুলবশত অন্যের নামে রেকর্ড হয়েছিল। আদালতের রায়ে তিনি মালিকানা ফিরে পেলেও প্রতিপক্ষ হাইকোর্টে আপিল করে। মামলাটি বিচারাধীন থাকতেই প্রতিপক্ষ জমির মাটি কেটে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ তাঁর। বাধা দিতে গেলে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সীমা বেগমের দাবি, প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাটি কেটে নিয়ে সেখানে পুকুর খনন করা হয়েছে। ভয়ভীতির কারণে এতদিন এলাকাবাসী মুখ খুলতে পারেননি, তবে সাম্প্রতিক অভিযানে তাঁরা আশাবাদী হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সংসদ সদস্য শেখ আবদুল্লাহ সিরাজদিখানের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও এসিল্যান্ড কার্যালয়ের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংসদ সদস্য শেখ আবদুল্লাহ বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি গ্রামবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাতে কেউ মাটি কাটতে এলে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম সহ্য করা হবে না।

