বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমাদের সামনে খুব একটা ভালো সময় নেই, বরং কঠিন সময় আসছে। চলমান যুদ্ধ আমাদের অর্থনীতির অনেক ক্ষতি করছে। এর প্রভাবে সামনে জ্বালানি তেলের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়তে পারে। দেশের স্বার্থে আমাদের এসব কষ্ট সয়ে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুন:খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ কমছে, তবে এর প্রতিবাদে পাম্প ভাঙচুর করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আমরা কোনো ধরনের ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কাউকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।
সারাদেশে ২০ হাজার খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্য ও হাঁস পালনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রকল্পের একটি টাকাও যেন অপচয় না হয়। কেউ দুর্নীতি বা অনিয়ম করলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ধার্মিক, তারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করে না। একটি দল মা-বোনদের বেহেশতে নেওয়ার কথা বলে ভুলিয়ে দেয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া বেহেশতে যাওয়া সম্ভব নয়। সৎ থাকতে হবে এবং হালাল রুজি খেতে হবে। আমরা কাজ করে জনগণের সেবা দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই।
কৃষকদের সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ঝড়-বৃষ্টিতে গম ও আলুর যে ক্ষতি হয়েছে তা আমরা বুঝি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় কৃষকদের সহায়তায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সারাদেশে কোটি কোটি নারীকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলল হোসেন এবং জেলা বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

