২০২৬ সালের শুরু থেকেই দেশে জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহ ও বিদ্যুতের চাহিদার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। আসন্ন সেচ মৌসুম, রমজান এবং গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পিডিবি (PDB)-র তথ্যমতে, বর্তমান সক্ষমতা প্রায় ২৮,০০০ মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি ও অর্থ সংকটে প্রকৃত উৎপাদন অনেক কম।সংকটের মূল কারণসমূহ:গ্যাস সরবরাহ ও উৎপাদনের ঘাটতি: দেশে গ্যাসের উৎপাদন প্রতি বছর গড়ে ২০ কোটি ঘনফুট হারে কমছে। বর্তমানে দৈনিক চাহিদা যেখানে অন্তত ১৩০-১৪০ কোটি ঘনফুট (বিদ্যুৎ খাতের জন্য), সেখানে সরবরাহ মাত্র ২৬০ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি।
দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ডলার সংকটে এলএনজি (LNG) আমদানি সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।আর্থিক সংকট ও ভর্তুকি: পিডিবি পাইকারি দরে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় ভয়াবহ লোকসানের মুখে পড়েছে। দেনা পরিশোধে তারা সরকারের কাছে ৩৮,৪৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দ দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
অব্যবহৃত সক্ষমতা: দেশে পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ীর মতো বড় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থাকলেও জ্বালানি ও ডলার সংকটে সেগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে থাকলেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে।২০২৬-এর সম্ভাব্য দৃশ্যপট:খাতপ্রভাব ও শঙ্কাসেচ মৌসুমবোরো আবাদের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮,৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান উৎপাদনের চেয়ে অনেক বেশি।রমজান ও গ্রীষ্মপিক আওয়ারে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বাড়তে পারে।
পিডিবি সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখা এবং সেচ পাম্পগুলো অফ-পিক সময়ে চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে।শিল্প ও গৃহস্থালিবিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে গেলে শিল্প কারখানা ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকটের তীব্রতা আরও বাড়বে।দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস:জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ সংকট বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল। যতক্ষণ পর্যন্ত নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ না আসছে, ততক্ষণ আমদানিনির্ভর এই সংকট থেকে উত্তরণ প্রায় অসম্ভব।

