উত্তরা, রাজধানীর ব্যস্ত তিন নম্বর সেক্টর। সরু রাস্তাগুলোর মধ্যে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। দুপুরের রোদেলা ঘুম ভেঙে আসে হঠাৎ—একটুখানি গ্যাসের লিকেজ, আর মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে ছিলেন সাতজন যুবক—শরীফ (২০), রুবেল (৩৫), সজীব (২৬), আসিফ (২৮), মেজবাহ (৪৫), মিলন (৪২) এবং সুজাত (২৯)। সবাই রেস্টুরেন্টের কর্মচারী। প্রতিদিনের মতো কাজ করছিলেন, কিন্তু হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই আগুন তাদের জীবনকে একটি ভয়ঙ্কর মুহূর্তে বদলে দিল।
হাসি-কান্না মিশ্রিত সেই দুপুরের মুহূর্তে তারা দেখতে পেলেন আগুন ধীরে ধীরে নিজেদের হাত, পা ও মুখে ছড়াতে শুরু করছে। কেউ চিৎকার করছিল, কেউ নিজেকে আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য দৌড়াচ্ছিল। তবে আগুনের তীব্রতা এতটা বেশি ছিল যে, সবাইকে দ্রুত বাইরে নেওয়া গেল।
শুক্রবার পর্যন্ত তিনজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল বার্ন ইনস্টিটিউটে। আর সাতজন—শরীফ, রুবেল, সজীব, আসিফ, মেজবাহ, মিলন ও সুজাত—বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু শুক্রবার রাতের ভয়ঙ্কর স্মৃতি, তীব্র দগ্ধের ব্যথা—সবই তাদের মনে দাগ কেটে গেছে।
শনিবার, উন্নত চিকিৎসার জন্য, সবাইকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানালেন, তাদের হাত, পা এবং মুখের কিছু অংশ দগ্ধ হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত, সবাইকে প্রাণে রক্ষা করা গেছে এবং তাদের অবস্থা গুরুতর নয়।
তাদের চোখে এখনও আগুনের সেই ভয়ঙ্কর ছায়া। কিন্তু একে অপরকে ধরা হাত, পাশে থাকা বন্ধুবান্ধবের সাহস—সবাইকে আবার নতুন করে শুরু করার শক্তি দিচ্ছে। ওই ছোট্ট রেস্টুরেন্টের ভেতর যে দিনটি ছিল তাদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন, এখন সেই স্মৃতি ধীরে ধীরে চিকিৎসার ঘ্রাণে মুছে যেতে শুরু করেছে।
একটা কথা নিশ্চিত—তারা শুধুই দগ্ধ হয়নি, বরং জীবন ও বন্ধুত্বের জ্বলন্ত মূল্যও অনুভব করেছে।

