আখাউড়া(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বানিজ্যিক ভাবে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বেগুন,শসা ও লেবু চাষ করছে। রমজানের শুরু থেকেই বেগুন শসা ও লেবুর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারিতে প্রতি কেজি শসাও বেগুন ৩০-৩৫ আর প্রতি হালি লেবু ৩০-৪০ টাকা বিক্রি করছে। ওই সব বিক্রিতে দর ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষকরা।
একাধিক কৃষক জানায় বর্তমানে লেবু চাহিদা বেশি থাকলেও তুলনামূলক উৎপাদন কম রয়েছে। তাই বাড়তি লাভের আশায় তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বৃষ্টির অভাব পূরণে তারা সেচের মাধ্যমে লেবুগাছে পানি সরবরাহ করছেন। তাতে গাছে গাছে ফুল আসছে, লেবু ধরছে। আর পরিপক্ক লেবু স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। সেইসাথে শসা ও বেগুনের ফলন ভালো হয়েছে। পাইকারিতে প্রতি কেজি শসাও বেগুন ৩৫-৪০ আর প্রতি হালি লেবু ৪০-৪৫ টাকা বিক্রি করছেন। তাছাড়া দর বেশী পেতে অনেক কৃষক আবার বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে পৌর শহরের দুর্গাপুর, খালাজোড়া, তারাগন, উপজেলার আজমপুর, আনোয়ারপুর, আদমপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সবজি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা সকাল থেকে সবজি খেতে পরিচর্যার পাশাপাশি সবজি তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।
কৃষক মো: তাজুল ইসলাম বলেন, আমার জায়গার পরিমাণ রয়েছে ১০ বিঘা। এ মৌসুমে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে শসা ও জায়গার চারপাশে বেগুন ও লেবু চাষ করি। এরমধ্যে স্মার্ট বয়, মালিনী ও মেসি এই ৩ জাতের শসা রয়েছে। বীজ ক্রয় করে নিজেই চারা করি। এরপর চারাগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে কোন প্রকার রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে জমিতে রোপন করি। প্রতি বিঘায় ২২শ চারা লাগানো হয়। জায়গা প্রস্তুত, চারা রোপন পরিচর্যা, বাঁশ, রশি, গুনা, রড,নেটজালসহ প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়। চারা লাগানোর ৩৮ দিনের মাথায় গাছে ফলন আসে। তাছাড়া ৫শতাধিক বেগুন ও ২ শতাধিক লেবু গাছ রয়েছে।
দৈনিক ২০ কেজির উপর বেগুন, ৪ মণের উপর শসা বিক্রি করছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে থেকে এক দিন পর পর ২০ মণের উপর শসা বিক্রি হবে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি শসা ও বেগুন ৩০ -৩৫ টাকা বিক্রি করছি। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকুল ও বাজার দর ভালো থাকলে ৭ লাখ টাকার উপর শসা আর ৪০ হাজার টাকার উপর বেগুন ও লেবু বিক্রি হবে।
কৃষক মো: আলী মিয়া জানায়, কিছু দিন আগে শসার দর অনেক কম ছিল। রমজান আসায় দর কিছুটা বেড়েছে। আশা করছি শেষ পযর্ন্ত যদি আবহাওয়া অনুকূলে এবং বাজার দর ভালো থাকে তাহলে লাভবান হবো।
কৃষক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, সবজি চাষ খরচ কম লাভ বেশী হওয়ায় বছরজুড়ে চাষ করছি। এ মৌসুমে ৫৫ শতক জায়গায় বেগুন, টমেটো লাউ আর শসা চাষ করি। ইতিমধ্যে টমেটো মুলা লাউ বিক্রি শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে চলছে শসা বিক্রি। বাজারে বেশ চাহিদা থাকায় বিক্রিতে ভালো দর পাচ্ছি।
কৃষক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, সবজি চাষ খরচ কম লাভ বেশী হওয়ায় বছরজুড়ে চাষ করছি। এ মৌসুমে ৫৫ শতক জায়গায় বেগুন, টমেটো লাউ আর শসা চাষ করি। ইতিমধ্যে টমেটো মুলা লাউ বিক্রি শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে চলছে শসা বিক্রি। বাজারে বেশ চাহিদা থাকায় বিক্রিতে ভালো দর পাচ্ছি।
কৃষক কবির মিয়া বলেন, এক সময় ধানসহ অন্যান্য চাষ করা হতো। ফলন ভালো না হওয়ায় এখন নানা প্রজাতির সবজি চাষ করছি। এ মৌসুমে ১৫ শতাংশ জমিতে শসা আবাদ করে ফলন ও বিক্রিতে দর ভালো পাচ্ছি।
কৃষক মো: মামুন মিয়া বলেন, বাড়ি সংলগ্ন জায়গাতে ৪শতাধিক লেবুর গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে লেবুর ফুল এসেছে। এরমধ্যে কিছু গাছে লেবু ধরেছে। পরিপক্ক লেবুগুলো বিক্রি করছি। এই রমজান মাসে লেবুর চাহিদা ভালো থাকায় বিক্রিতে বেশ দর পাচ্ছি।
কৃষক মো: মামুন মিয়া বলেন, বাড়ি সংলগ্ন জায়গাতে ৪শতাধিক লেবুর গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে লেবুর ফুল এসেছে। এরমধ্যে কিছু গাছে লেবু ধরেছে। পরিপক্ক লেবুগুলো বিক্রি করছি। এই রমজান মাসে লেবুর চাহিদা ভালো থাকায় বিক্রিতে বেশ দর পাচ্ছি।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বানিজ্যিকভাবে সবজিসহ লেবু আবাদ হচ্ছে। সবজি আবাদে কৃষকদেরকে সার বীজসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়াসহ ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হচ্ছে। রমজানে বেগুন শসা ও লেবুর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। আমরা চাষিদের ফলন বৃদ্ধিতে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছে।

