নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি তেলের সংকট মোকাবিলা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ কৃষকরা। এরই মধ্যে মতলেব হোসেন (৫০) নামে এক কৃষক গত চার দিন ধরে বাইসাইকেলে পেট্রোলচালিত সেচযন্ত্র নিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনে ঘুরছেন ফুয়েল কার্ডের আশায়।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে ওই কৃষকের দেখা মেলে। চার দিন ধরে দৌড়ঝাঁপ করেও তিনি এখনো ফুয়েল কার্ড পাননি। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে আবারও বাড়ির পথে ফিরে যান।
মতলেব হোসেন উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষিকাজ করেই পরিবার চালান।
তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি একটি পেট্রোলচালিত সেচযন্ত্র কিনেছেন। কিন্তু তেলের অভাবে সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে দুই দিন আগে ২০০ টাকা দিয়ে এক লিটার পেট্রোল কিনে জমিতে সেচ দিয়েছেন, যা তার পক্ষে নিয়মিত বহন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, “ফুয়েল কার্ড না পেলে এ মৌসুমে ফসল ঘরে তুলতে পারব না। জমিতে পানি দিতে না পেরে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জমির অবস্থা দেখে চোখে পানি চলে আসে।”
ফুয়েল কার্ডের জন্য কেন চার দিন ধরে ঘুরছেন—এ প্রশ্নে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কাগজপত্র জমা দিতে নানা জটিলতা রয়েছে।
মেশিনের প্রমাণ হিসেবে সেটি অফিসে নিয়ে আসতে হয়েছে। এছাড়া যাঁর কাছ থেকে মেশিনটি কেনা হয়েছে তাকেও নিয়ে আসতে হবে এবং কৃষি অফিসের লিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন—এসব কারণেই তাকে বারবার আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।
এদিকে একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন রাতোর ইউনিয়নের কৃষক আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, “এখানে আসতে তিন-চারটি যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে ১০০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আবার বাড়ি ফিরতেও একই খরচ হবে।”
নেকমরদ ইউনিয়নের পারকুন্ডা গ্রামের কৃষক যতীন রায় জানান, তিনি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে অটোযোগে মেশিন নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “পানি দিতে না পারলে ধানের জমি নষ্ট হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে জমি ফেটে গেছে।”
সারাদিনে দেখা যায়, আরও বেশ কয়েকজন কৃষক পেট্রোলচালিত সেচযন্ত্র নিয়ে কৃষি অফিসে ফুয়েল কার্ডের জন্য ভিড় করছেন। তবে অনেকেই প্রথমবার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন, ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, “ফুয়েল কার্ডের জন্য অনেকেই আবেদন করছেন, কিন্তু বেশিরভাগের কাগজপত্র সঠিক নয়। কারও ইঞ্জিন বা চেসিস নম্বর নেই, আবার কেউ দোকানের মেমো নিয়ে আসছেন। যাচাই-বাছাই ছাড়া কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনায় বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ডিজেলের কোনো সংকট নেই, তাই সেচ কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আগামী বুধবার পেট্রোলচালিত সেচযন্ত্রের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

