মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালুখালী সাব জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নিঃস্ব হওয়ার পথে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম। তার অভিযোগ, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার সেচ পাম্পের মোটর ও রাইস মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পানির অভাবে তার বোরো ধানের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং মিল বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে নিজ বাড়িতে “মালেকা ট্রেডার্স অ্যান্ড রাইস মিল” নামে একটি ছোট মিল প্রতিষ্ঠা করেন আজিজুল ইসলাম। মিলটিতে তিনি ২০ হর্স পাওয়ারের একটি বৈদ্যুতিক মোটর বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালুখালী সাব জোনাল অফিস থেকে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। মিলের আয় এবং কৃষিজমিতে চাষাবাদ করে বেশ ভালোভাবেই চলছিল তার সংসার।
মিলের পাশাপাশি বাড়ির পাশের মাঠে তার একটি স্যালো ইঞ্জিনচালিত সেচযন্ত্র ছিল। সেই সেচযন্ত্রের মাধ্যমে তিনি নিজের জমিতে সেচ দিয়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করতেন। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন।
কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেচের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তিনি স্যালো ইঞ্জিনের পরিবর্তে ওই জমিতে দুই হর্স পাওয়ারের একটি বৈদ্যুতিক মোটর স্থাপন করেন। কিন্তু গত ৬ মার্চ শুক্রবার রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালুখালী সাব জোনাল অফিসের জুনিয়র প্রকৌশলী রুবেল হোসেনের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি দল তার সেচ পাম্পের মোটর এবং রাইস মিলের মোটরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর থেকেই সেচের পানির অভাবে তার বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার পথে। একই সঙ্গে মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং তার পরিবারের আয়-রোজগারও থেমে গেছে।
কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমার যে জমিতে সেচের মোটর বসানো হয়েছে সেই জমি নিয়ে আরেকজনের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আমি আদালতে মামলাও করেছি। আমার ধারণা, ওই পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কালুখালী অফিসের জুনিয়র প্রকৌশলী রুবেল হোসেন আমার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। অথচ আমার জমির পাশ দিয়েই তুরাপ আলী শেখ, মোহাম্মদ শেখ, আহম্মদ শেখ, তইমুদ্দিন শেখ ও করম শেখের সেচ মোটর রয়েছে এবং সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলছে। যদি আমারটা অবৈধ হয়, তাহলে তাদের মোটরও তো অবৈধ হওয়ার কথা। কিন্তু শুধু আমার ক্ষেত্রেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বোরো ধানের ক্ষেত পানির অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে। মিল বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে যাব।”
এ বিষয়ে জানতে রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালুখালী সাব জোনাল অফিসের জুনিয়র প্রকৌশলী রুবেল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে অফিসে গিয়ে কথা বলতে বললে তিনি জানান, “আইনগতভাবেই আজিজুল ইসলামের সেচের মোটর এবং মিলের মোটরের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে।” তবে পাশের অন্য সেচ মোটরগুলো কীভাবে চালু রয়েছে—এ প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে তার অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এ বিষয়ে কালুখালী সাব জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. এমদাদ উল্লাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না। তাই এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।”
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কৃষক আজিজুল ইসলামের মতো আরও অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

