নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামটি সাধারণত শান্ত একটি জনপদ। ছোট ছোট ঘর, পরিচিত মুখ আর সহজ জীবনের গল্পে ভরা সেই গ্রাম হঠাৎই এক সকালে স্তব্ধ হয়ে যায় একটি মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ায়। শুক্রবার সকালে একটি বসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয় তিনজনের মরদেহ। তারা হলেন রাজ সরকার (৩৫), তাঁর স্ত্রী দৃষ্টি সরকার এবং তাদের দুই বছরের ছোট্ট কন্যা জেনি সরকার। রাজ সরকার ছিলেন গ্রামের গৌতম সরকারের ছেলে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, আগের রাতটা অন্য দিনের মতোই ছিল। রাতের খাবার খেয়ে রাজ সরকার তাঁর স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু গভীর রাতে সেই ঘরেই ঘটে যায় ভয়াবহ একটি ঘটনা। প্রতিবেশীরা জানান, রাতের কোনো এক সময় ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তখন কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সকালে যখন দেখা যায় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ, তখন সন্দেহ হয় সবার। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা দেখতে পান বিছানায় পড়ে আছে দৃষ্টি সরকার ও ছোট্ট জেনির রক্তাক্ত নিথর দেহ। আর ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিলেন রাজ সরকার, গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন নিয়ে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁরও মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশী আনন্দ কুমার ভারী কণ্ঠে বলেন, রাতে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন তারা। কিন্তু তখন কেউ ভাবেননি এমন কিছু ঘটতে পারে। সকালে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেই সবাই হতবাক হয়ে যান।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজ সরকার প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। এরপর নিজেও গলায় ছুরি চালান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মানসিক সমস্যাতেও ভুগছিলেন।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো গ্রামই শোকে স্তব্ধ। ছোট্ট জেনির হাসিমুখ, দৃষ্টি সরকারের শান্ত স্বভাব—সবই এখন মানুষের স্মৃতিতে ভাসছে। গ্রামের অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারে না ঘটে।

