স্টাফ রিপোর্টার: আব্দুস সালাম মোল্লা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মুজাহিদ বেগের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, দ্বিচারিতা, পেশী শক্তি ও কালো টাকা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবুল। একই সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীকে ‘ছায়া প্রার্থী’ হিসেবে মুজাহিদ বেগকে ব্যবহার করার অভিযোগও করেন তিনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও ফরিদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগকে সামনে রেখে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিক্সন চৌধুরী একাধিকবার এ আসনের এমপি ছিলেন এবং তাঁর অনুসারীদের নিয়ে জুম মিটিং ও গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের পরিকল্পনা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাবুল দাবি করেন, নিক্সন চৌধুরীর কাছে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা রয়েছে, যা ব্যবহার করে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে কালো টাকা ছড়াছড়ি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন বলেও ঘোষণা দেন।
ধানের শীষের এই প্রার্থী আরও বলেন, নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী নজরুলসহ কয়েকজনের সহায়তায় মুজাহিদ বেগ রাতের আঁধারে গাড়িবহর নিয়ে এলাকায় কালো টাকা বিতরণ করছেন। তাঁর ভাই পান্না বেগ ও সজিব বেগ প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে পুরো নির্বাচনী পরিবেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে কোনো বড় ধরনের সহিংসতা হয়নি। পরিকল্পিতভাবে এসব প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে নির্বাচন বানচাল ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুজাহিদ বেগ এবারের নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নির্বাচন’ বলে আখ্যায়িত করে ২০২৪ সালের ‘ডামি নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন’। অথচ যিনি নিজে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন, তিনিই আবার অন্যদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলছেন—যা সম্পূর্ণ দ্বিচারিতার পরিচয়।
শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, বিগত আন্দোলনের সময় নিক্সন চৌধুরী যেসব অপকর্ম করেছিলেন, এখনও একই কৌশলে মুজাহিদ বেগকে ব্যবহার করে এলাকায় ভয়-ভীতি, প্রলোভন ও অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। নারী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে ভোট চাওয়ার ভিডিও প্রমাণ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান, চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদল আমিন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম খন্দকার, জেলা কৃষকদলের সেক্রেটারি মুরাদ হোসেন, মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক মামুন অর রশীদ মামুনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

