ফরসা হওয়ার নেশায় নকল ও ভেজাল কসমেটিকস ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের রোগসহ নানা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজার ও সাভারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল কসমেটিকস জব্দ করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, এসব পণ্যে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে আড়াই হাজার গুণ বেশি ক্ষতিকর ‘হাইড্রোকুইনোন’ নামক রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি কেজি কসমেটিকসে ৫ মিলিগ্রামের বেশি হাইড্রোকুইনোন ব্যবহার নিষিদ্ধ।
বিএসটিআই পরিচালক (সিএম) সাইফুল ইসলাম বলেন,
“এসব ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারে কিডনি, লিভার ও ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।”
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এসএম ফেরদৌস আলম জানিয়েছেন, নকল কসমেটিকস উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ অভিযান চলমান থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নকল ক্রিমে অতিরিক্ত হাইড্রোকুইনোনের কারণে ত্বক দ্রুত ফরসা দেখালেও এটি শরীরের ভেতরে মারাত্মক ক্ষতি করে।
ডা. এনামুল করিম, মহাখালী গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ, বলেন—
“চেহারা ফরসা করতে গিয়ে এসব নকল পণ্য ব্যবহারে লিভার ও দেহের অন্য অংশে ক্যানসার হতে পারে।”
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এমএন হুদা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ফরসা হওয়ার ক্রিম ব্যবহারের জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
“কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ত্বক উজ্জ্বল দেখালেও পরে স্কিন ক্যানসারসহ জটিল সমস্যা দেখা দেয়,” বলেন তিনি।
এছাড়া, গাইনোকোলজিস্ট ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি সতর্ক করে বলেন—
“বিষাক্ত ক্রিম ব্যবহারে নারীদের অসময়ে গর্ভপাত, স্তন ও ত্বকের ক্যানসার এমনকি গর্ভস্থ শিশুও জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।”
বিশ্বের অনেক দেশে হাইড্রোকুইনোনযুক্ত প্রসাধনী নিষিদ্ধ থাকলেও, বাংলাদেশে এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে এসব নকল পণ্য বাজারজাত করছে। অনেকেই অনলাইনেও এই ক্ষতিকর পণ্য বিক্রি করছে।
রসায়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. আবুল হাসনাত বলেন—
“হাইড্রোকুইনোন সংমিশ্রণে তৈরি এসব পণ্যে ক্যানসার, কিডনি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত নয়।”

