“যাকে ১৫ বছর ধরে আগলে রেখেছি, আজ বাইরে থেকে আসা একটা মেয়ে তার কাছে এতটা আপন?” —এই প্রশ্নটি রেখে চিরতরে ওপাড়ে চলে গেলেন ইকরা। ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাথ খান ইকরার আত্মহত্যা কি শুধুই একটি দুর্ঘটনা, নাকি দীর্ঘদিনের অবহেলা আর মানসিক নির্যাতনের চূড়ান্ত পরিণতি? ইকরার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ত্রিশার ফাঁস করা চ্যাটবক্স থেকে এখন বেরিয়ে আসছে এক অবহেলিত স্ত্রীর পনেরো বছরের হাহাকার।
২০১০ সালে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন আলভী ও ইকরা। কোলজুড়ে এসেছিল সন্তান ‘রিজিক’। কিন্তু সেই সাজানো সংসারে ফাটল ধরায় পরকীয়ার বিষাক্ত ছোবল। ইকরার বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশার শেয়ার করা মেসেঞ্জার চ্যাটে দেখা যায়, সহ-অভিনেত্রী তিথির সঙ্গে আলভীর সম্পর্ক নিয়ে কতটা যন্ত্রণায় ছিলেন ইকরা। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল—আলভী যখন শুটিংয়ে পুবাইলে থাকতেন, তখন নিজের সন্তানকে সময় দেওয়ার চেয়ে ওই অভিনেত্রীকে বেশি অগ্রাধিকার দিতেন।

মৃত্যুর ঠিক আগে ফেসবুকের দেয়াল হয়ে উঠেছিল তাঁদের রণক্ষেত্র। শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে আলভী লেখেন— “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না।” এই পোস্টের নিচে ইকরা পাল্টা মন্তব্যে লেখেন— “অভিনন্দন! ভুল স্বীকার করতে পারলা! আমি আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম, আবার কাঁদছো কেন?” এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইকরা পোস্ট করেন তাঁর শেষ হাস্যোজ্জ্বল ছবি, যেখানে তিনি নিজের জীবন ধ্বংসের পরিহাসের কথা লিখেছিলেন।

ফাঁস হওয়া চ্যাটে ইকরার সেই অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে, যেখানে তিনি নিজেকে আলভীর জীবনের ‘বাধা’ হিসেবে মনে করতেন। আলভী নাকি সবাইকে বলতেন—বিয়ের কারণে তিনি তাঁর আসল ভালোবাসাকে পাচ্ছেন না। এমনকি মেসেঞ্জারে ইকরার নাম পাল্টে রাখা হয়েছিল ‘জালিমা’। বন্ধু ত্রিশার দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইকরাকে তিলে তিলে এই চরম পথের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় আলভী নেপালে ‘দেখা হলো নেপালে’ নাটকের শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার দাবি করলেও নেটিজেনদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন তিনি ও অভিযুক্ত সেই অভিনেত্রী। পল্লবী থানা পুলিশ বর্তমানে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও ইকরার ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করছে।

