মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) তাদের বার্ষিক রিপোর্টে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র)-কে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে। তবে এই সুপারিশকে একপেশে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র সমালোচনা করেছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এই রিপোর্ট ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। তিনি বলেন, “এটি পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মূল্যায়ন, যা ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ।”
নয়াদিল্লির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন ভারতের বহুত্ববাদী সমাজ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপি সরকারের বক্তব্য, “গণতন্ত্র ও সহনশীলতায় বিশ্বাসী ভারতকে দুর্বল করার এই চক্রান্ত সফল হবে না।”
মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই সম্প্রতি দাবি করেছে, ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠন শিখ ফর জাস্টিসের (এসএফজে) নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পন্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ভারত সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, “এটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার।”
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, “গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ভারত কখনো কারও কাছে জবাবদিহি নয়। বরং, মার্কিন কমিশন নিজেই একটি উদ্বেগের বিষয়।”
নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, “ভারত তার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কখনো পিছপা হবে না। মার্কিন এই সুপারিশ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একপেশে সিদ্ধান্তেরই প্রতিফলন।”