ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর দেশজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রায় ১৩ ঘণ্টা বিতর্কের পর বিলটি ৫৬ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়। ২৮৮ জন এমপি বিলের পক্ষে ভোট দেন, আর বিপক্ষে ভোট দেন ২৩২ জন।
বিলটিকে “বৈষম্যমূলক ও সংবিধান লঙ্ঘনকারী” আখ্যা দিয়েছে ভারতীয় মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বিলের কপি ছিঁড়ে লোকসভায় প্রতিবাদ জানান।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুম্মার নামাজের পর দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই, আহমেদাবাদসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। গুজরাটের আহমেদাবাদে প্রবীণ বিক্ষোভকারীদের জোর করে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
তামিল অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাঙ্গ ভেত্তরি কাঝাগাম’ চেন্নাইসহ রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার মুসলমানদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেব না।” কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও বিলটির তীব্র বিরোধিতা করে একে “মুসলিমদের অধিকার হরণ করার অস্ত্র” বলে মন্তব্য করেছেন।
নতুন বিল অনুযায়ী, ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তিতে জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন এবং বোর্ডে দুইজন হিন্দু সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এ কারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং বিল প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হচ্ছে।