যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বসিয়েছেন। তার জবাবে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) চীনও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
চীনের এমন প্রতিক্রিয়ায় কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, “তারা ভুল করছে, কারণ তারা আতঙ্কে আছে।” ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন জনগণকে আতঙ্কিত না হতে বলেও পরামর্শ দেন। শেয়ার বাজারে পতন নিয়ে উদ্বেগ না করে বরং একে তিনি “ধনী হওয়ার উপযুক্ত সময়” হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক নীতির পর টানা দুই দিন ধরে বিশ্বের বড় বড় শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, এই শুল্ক নীতির ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
শুক্রবারও ওয়াল স্ট্রিটসহ এশিয়া ও ইউরোপের অধিকাংশ বাজারে বড় ধরনের পতন অব্যাহত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে থাকা শীর্ষ কোম্পানিগুলোর স্টক ইনডেক্স, যেমন ডাউ জোন্স কমেছে ৫.৫ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫.৯৭ শতাংশ। মোট ক্ষতির পরিমাণ ছয় লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ দেখছেন না। বরং তিনি বলেছেন, “আমার নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। এখনই সঠিক সময় এগিয়ে যাওয়ার।”
চীন শুধু পাল্টা শুল্কেই থেমে থাকেনি। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যাওয়ার হুমকি দিয়েছে, এমনকি চিকিৎসা ও ইলেকট্রনিক খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানের রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আবারও ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছেন, “চীন ভুল পথে হাঁটছে। তারা ভয় পেয়ে গেছে, অথচ তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো এখনই কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ জানিয়েছেন, ট্রাম্প ২০ শতাংশ শুল্ক চাপালেও তারা ধীর, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার পক্ষে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, বরং সময় মতো সঠিক জবাব দেবে।