ডেনমার্ক কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড ছেড়ে দেবে না, এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন। বৃহস্পতিবার গ্রিনল্যান্ড সফরকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত চাপের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুটে এগেদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ফ্রেডরিকসেন বলেন, “আপনি অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে পারেন না।”
ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ ও ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়া
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রীর এই তিন দিনের সফর আসে এমন এক সময়, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল গত সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ড সফর করে। সফরকালে ভ্যান্স গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের আওতায় আনার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আর্কটিকে নিরাপত্তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ডেনমার্কের ভূমিকা সমালোচনা করেন।
ফ্রেডরিকসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।”
তিনি জানান, ডেনমার্ক আর্কটিকে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যখন আমাদের নিকটতম মিত্র আমাদের ভূখণ্ডের ওপর দাবি তোলে, তখন আমরা কীভাবে সেই মিত্রকে বিশ্বাস করব?”
গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান
গ্রিনল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুটে এগেদে উল্লেখ করেন, ১৯৫১ সালে ডেনমার্ক-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির আওতায় পিটুফিক স্পেস বেস নির্মাণসহ দেশটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা করছে। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, তবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চাই।”
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ: স্বাধীনতা নাকি ডেনমার্কের সঙ্গেই থাকা?
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড প্রায় ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্কের অধীনে রয়েছে। যদিও দ্বীপটি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে, তবে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কোপেনহেগেন।
গ্রিনল্যান্ডের ছয়টি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে পাঁচটি স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও, তারা কবে এবং কীভাবে এটি অর্জন করবে, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে, বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী স্বাধীনতা চায়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।
২০০৯ সাল থেকে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের অধিকার রয়েছে, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু রাজনৈতিক দল একটি গণভোটের জন্য আরও জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছে।