রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ইউক্রেনের সম্পদ এখন আরও একটি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ওডেসা বর্তমানে নতুন একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। পোল্যান্ডের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন উপমন্ত্রী মিশাল কোলোডজিজ্যাক সম্প্রতি একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে তিনি ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের একটি অংশ অধিগ্রহণের বা ৫০ বছরের জন্য লিজ নেওয়ার কথা বলেন।
তিনি মন্তব্য করেছেন, “ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরের বন্দর ওডেসার অংশ আমাদের অধিগ্রহণ করা উচিত, যাতে পোল্যান্ড শস্য পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর পেতে পারে।” ওডেসা, যা গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী তেল রফতানির জন্য একটি বিশ্ববিখ্যাত বন্দর, দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল এবং ১৭৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এটি ইউক্রেনের অর্থনৈতিক জীবনধারা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি মূল প্ল্যাটফর্ম।
পোল্যান্ডের মন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় শস্য পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য পোল্যান্ডের প্রয়োজন একটি নিজস্ব শস্য বন্দর। দক্ষিণ-পূর্ব পোল্যান্ড থেকে শস্য রপ্তানি করতে এটি একটি আদর্শ ব্যবস্থা হতে পারে। পোল্যান্ড এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন, যেখানে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় শস্য পরিবহন একত্রে পরিচালিত হবে।

এর পাশাপাশি, মিশাল কোলোডজিজ্যাক ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানে বিরোধিতা করেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ইউক্রেন যদি ইইউ-তে যোগ দেয়, তাহলে পোল্যান্ডের কৃষিতে ইউক্রেনীয়দের বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা উচিত।” উল্লেখযোগ্য যে, ইউক্রেন ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের জন্য আবেদন করেছিল, এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আলোচনা শুরু হয়।
রাশিয়া ওডেসা বন্দরের অবকাঠামোকে কয়েকবার লক্ষ্যবস্তু করেছে, কারণ তারা দাবি করে যে ইউক্রেনীয় বাহিনী বন্দরের জলপথকে আত্মঘাতী ড্রোন হামলার জন্য ব্যবহার করছে। যদিও ২০২২ সালে রাশিয়া এবং ইউক্রেন একটি জাতিসংঘ সমর্থিত চুক্তি সই করেছিল, যা শস্য জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দেয়, ২০২৩ সালে রাশিয়া সেই চুক্তি থেকে সরে আসে।
বর্তমানে, রাশিয়া জানিয়েছে যে, যদি পশ্চিমা দেশগুলো তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে তারা চুক্তিতে ফিরে আসবে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি বা সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলমান রয়েছে, যা পরবর্তী সময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে।