সম্প্রতি দিল্লির কনট প্লেসে এক ভারতীয় যুবকের সঙ্গে এক অস্ট্রেলীয় দম্পতির এক অদ্ভুত এবং বৈষম্যমূলক মন্তব্যের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল সৃষ্টি করেছে। যুবকটি নিজেই রেডিটে এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, এক অস্ট্রেলীয় দম্পতি তাঁর কাছে বিমানবন্দরের রাস্তা সম্পর্কে সাহায্য চান। যুবকটি তাঁদের সাহায্য করে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যান এবং বিমানবন্দর যাওয়ার সঠিক উপায় জানিয়ে দেন।
তবে, এই সাহায্যের জন্য ভারতীয় যুবকের ধন্যবাদ পাওয়ার বদলে, ওই অস্ট্রেলীয় ব্যক্তি একটি অসম্মানজনক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আপনার গন্ধ বাকি ভারতীয়দের মতো নয়। আপনার গন্ধ ভালো।” যুবকটি এই মন্তব্যে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যান এবং অবাক হয়ে যান। কিন্তু তার পরেই অবমাননাকর মন্তব্যের এক নতুন দিক আসে। ওই ব্যক্তি বলেন, “ইন্টারনেট ভারতীয়দের গায়ের দুর্গন্ধ নিয়ে ঠিকই বলে।” এর পরেই তাঁর স্ত্রীও এই মন্তব্যে সম্মতি জানিয়ে মাথা নাড়েন বলে দাবি করেছেন ভারতীয় যুবকটি।
এই ঘটনাটি যুবকটির জন্য বেশ অদ্ভুত এবং বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে, কারণ একদিকে তাঁর প্রশংসা করা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে তাঁর দেশের মানুষদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। যুবকটি আরও জানান, তিনি বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। তিনি রেডিটে লেখেন, “আমি ভাবছিলাম, আমি ওই ব্যক্তিকে ধন্যবাদ দেব, নাকি আমার দেশের সমর্থনে কিছু বলব। শেষ পর্যন্ত, আমি কোনো উত্তর দিইনি এবং ওদের নয়াদিল্লি মেট্রো স্টেশন থেকে অরেঞ্জ লাইন নিতে বলে চলে যাই।”
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অস্ট্রেলীয় দম্পতির বিরুদ্ধে বৈষম্যবাদের অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই এই মন্তব্যকে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে সরাসরি অপমান হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, কোনো জাতি বা জনগণের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা শুধু অশোভন নয়, বরং সাংস্কৃতিক বৈষম্য ও অজ্ঞতার প্রকাশ।
এছাড়াও, কিছু নেটিজেনের দাবি, এই ধরনের মন্তব্যগুলো ভারতীয়দের প্রতি আগ্রাসী এবং অবমাননাকর মনোভাবের প্রতিফলন। একদিকে যখন বিশ্বব্যাপী বৈশ্বিক ঐক্য এবং সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, তখন এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বৈষম্যের উদ্বোধন ঘটায় এবং এটি সামাজিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন, এবং তারা আশা করছেন, এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে যাতে ভবিষ্যতে আর এমন বৈষম্যমূলক মন্তব্য বা আচরণ দেখা না যায়।