পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রথম এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) পর্যালোচনা এবং রেজিলিয়েন্স ও সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) অধীনে নতুন অর্থপ্রাপ্তির বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এটি দেশটির দুর্বল অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইএমএফ প্রতিনিধি দল আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর না করেই বিদায় নেওয়ায় নানা জল্পনা-কল্পনা দেখা দিয়েছিল। তবে সংস্থার মিশন প্রধানের বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, পাকিস্তান তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে সন্তোষজনক অগ্রগতি করেছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, গত ১৮ মাসে পাকিস্তান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে। যদিও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনো মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে, তবে মুদ্রাস্ফীতির হার ২০১৫ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এছাড়া আর্থিক অবস্থার উন্নতি, বৈদেশিক ঋণের সুদের হার হ্রাস এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের মতো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে।
এটি স্পষ্ট যে, পূর্ববর্তী ৩ বিলিয়ন ডলারের স্বল্পমেয়াদি সহায়তা কর্মসূচি এবং বর্তমানে চলমান ৩৭ মাসের আর্থিক কর্মসূচি পাকিস্তানকে ঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি টেকসই পথে রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তান অতীতেও একাধিকবার আইএমএফের সহায়তায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করেছে, কিন্তু দ্রুত প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কারণে দেশটি পুনরায় সংকটে পড়েছে।
সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, আইএমএফ এখন পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে এবং কঠোরভাবে সংস্কার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পরামর্শ দিয়েছে, অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে বাজেট ঘাটতি কমানো, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে সরকারকে অবশ্যই কর ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে হবে এবং রিয়েল এস্টেট, খুচরা বিক্রেতা এবং অন্যান্য বিশেষ খাতের জন্য প্রদত্ত কর ছাড় পর্যালোচনা করতে হবে।
তবে নীতিগত অসঙ্গতি শুধুমাত্র একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক নীতির কড়াকড়ি, বাণিজ্যে সুরক্ষাবাদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সরকার যদি শুধুমাত্র প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে মনোযোগী হয় এবং বাজেট ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণ না করে, তাহলে তা দেশের জন্য আরও ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে হলে পাকিস্তানকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, যদি দেশটি শুধুমাত্র আইএমএফের ঋণের ওপর নির্ভর করে এবং কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংকট আরও গভীর হবে।
অর্থাৎ, পাকিস্তানকে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদী স্থিতিশীলতায় সন্তুষ্ট হলে চলবে না। বরং অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী ও টেকসই করতে হলে কঠোর সংস্কার এবং দক্ষ নীতিনির্ধারণ অপরিহার্য।