মো. আসাদুজ্জামান মিয়া,বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ঈদ উপলক্ষ্যে পুলিশকে খাসি কিনে দেওয়ার কথা বলে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা, ওয়ার্ড আ লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার মেম্বার ও বাজার বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত কালিনগর বাজারের সভাপতি লক্ষণ মণ্ডল, রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা ও ৯ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার মেম্বার ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে ঈদে খাসি কিনে দেয়ার কথা বলে বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা তোলেন।ওই চাঁদার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা স্থানীয় এক মেম্বারের কাছে তারা দেন পুলিশ ফাঁড়িতে দেয়ার জন্য। ওই মেম্বার ফাঁড়ির ইনচার্জকে টাকা দেয়ার বিষয়টি জানালে ফাঁড়ির ইনচার্জ মাইকেল মধুসুদন পান্ডে টাকা নেবে না বলে জানায়। পরে ওই মেম্বার ওই টাকা বাজারের সভাপতি লক্ষণ মন্ডলের কাছে ঈদের দিন বিকালে ফিরিয়ে দেয়।
বাজারের ব্যবসায়ী সুজিত পাল, উত্তম দত্ত, কৃষ্ণ মালো বলেন, ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে খাসি কিনে দেবে বলে কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বার, লক্ষণ মন্ডল আমাদের সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩শ, ৫শ করে টাকা উঠিয়ে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে কালিনগর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, ঈদের দুই-তিন দিন আগে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর, বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ মন্ডল ফাঁড়ির পুলিশকে খাসি কিনে দেবে এ কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫শ’ ৩শ’ ১ হাজার টাকা করে চাঁদা তুলেছে। তিনি আরো বলেন, এ চাঁদা তোলার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে মোট ব্যবসায়ী রয়েছে ৭ শতর মতো। চাঁদা তোলার বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে।
কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর ও লক্ষণ মন্ডল বলেন, ঈদ আসলে প্রতি বছর বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলে ফাঁড়িতে খাসি কেনার জন্য দেওয়া হয়। তাই এ বছরও টাকা তোলে ১০ হাজার টাকা খাসি কেনার জন্য দেওয়া হয়েছে। একটি মহল টাকা তোলার বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা করছে। পরে ৩১ মার্চ বিকেলে সকল ব্যবসায়ীর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মেম্বর বলেন, খাসি কেনার টাকা আমার কাছে দিয়েছিল। পুলিশ না নেওয়ার কারনে ওই ১০ হাজার টাকা বাজারের বনিক সমিতির সভাপতি লক্ষনের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মধু সুদন পান্ডে বলেন, আমাদের ফাঁড়িতে কেউ কোন টাকা দেয়নি। আর আমরা কেনো খাসি কেনার জন্য তাদের কাছ থেকে টাকা নিবো। তিনি আরো বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর ও লক্ষণ মন্ডল টাকা তোলেছে শুনেছি। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। তা ছাড়া কালাম মোল্যার নামে মামলা রয়েছে তাকে পুলিশ খুজছে গ্রেপ্তারের জন্য।
থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশের কথা বলে টাকা তোলার বিষয়টি শুনে ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে জানতে চাইলে সে জানায় কিছু লোক ফাঁড়ির কথা বলে টাকা উঠিয়েছে শুনেছি। ওসি বলেন ব্যবসায়ীরা যদি লিখিত অভিযোগ দেয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।