মোঃ এ কে নোমান, নওগাঁ:
নওগাঁর ধামইরহাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ধামইরহাট-পত্নীতলা আঞ্চলিক মহাসড়কে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দ্রুতগামী একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর দুটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোট পাঁচজন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে গুরুতর আহত আলবার্ট মার্ডি (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি উপজেলার লক্ষীতাড়া গ্রামের রাফায়েল মার্ডির ছেলে।
আহতদের মধ্যে তার শ্বশুর ইশ্বর মার্ডি (৫৫) বর্তমানে ধামইরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপর গুরুতর আহত রুবেল (৩৫), যিনি পত্নীতলার জামগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার শিকার আরও দুই মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুল খালেক (৩২) ও খাজা ময়েন উদ্দিন ভুট্টু ধামইরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা দুজনই পত্নীতলা উপজেলার গগনপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ঈদের আনন্দে আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মালেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙা মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন এবং আহতদের খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ধামইরহাটে উঠতি বয়সি মোটরসাইকেল চালকদের বেপরোয়া গতি এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অধিকাংশ চালক একাধিক আরোহী নিয়ে উচ্চগতিতে মোটরসাইকেল চালান, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও অনেকেই নিয়ম মানতে অনীহা দেখাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পরিবার ও অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে, যেন তারা সন্তানদের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল চালনায় উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।