সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ উঠেছে! সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা মোটরসাইকেল চোরকে গ্রেপ্তারের পর ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে থানা পুলিশ।এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল মালিক আবু ইউসুফ। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন,চোর ধরলাম,পুলিশের হাতে তুলে দিলাম আর তারাই টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দিল! তাহলে ন্যায়বিচার কোথায়? পুলিশের কাজ কি অপরাধীদের রক্ষা করা? এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১১ মার্চ বিকেলে আবু ইউসুফ তার ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেলটি বাড়ির সামনে বারান্দায় রেখে ঘরে ঢোকেন।কিছুক্ষণ পর বারান্দায় এসে দেখেন দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের আশপাশে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাফেরা করছে।তাঁর মনে খটকা লাগলে সে দ্রুত বাড়ীর পিছন গেট দিয়ে বের হয়ে আসামাত্রই দুই চোর মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ইউসুফ দ্রুত তাদের পিছু ধাওয়া করলেও তাদের ধরতে পারেননি।পরে তিনি থানার পাশেই একটি অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং কালাই থানায় একটি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ দায়ের করেন।
ফেসবুকে পোস্টের জের ধরে ২৯ মার্চ স্থানীয় কিছু ব্যক্তি চোরকে শনাক্ত করার পর বিষয়টি ইউসুফকে জানান। তখন ইউসুফ থানায় গিয়ে ওসি জাহিদ হোসেন ও ইন্সপেক্টর এসএম কামাল হোসাইনকে অভিযুক্ত মোটরসাইকেল চোরের বিষয়ে জানান।এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চোর মনোয়ার হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
মোটরসাইকেল মালিক আবু ইউসুফ বলেন,আমি “নিজেই চোরকে ধরতে সহযোগিতা করেছি। রাতে থানায় গেলে ওসি সাহেব আমাকে বলেন, রাত অনেক হয়েছে,সকালে আসেন,মামলা হবে, চোরকে জেলহাজতে পাঠানো হবে। কিন্তু সকালে গিয়ে দেখি,চোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে! টাকা ছাড়া কি চোরদের মুক্তি দেওয়া হয়? তাহলে পুলিশের ভূমিকা কী?তারা কি জনগণের সেবক, নাকি অপরাধীদের রক্ষাকর্তা?
এই অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে কালাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন,টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি একেবারেই ভিত্তিহীন। অভিযোগকারীর দেওয়া ছবির ভিত্তিতে একজনকে থানায় আনা হয়েছিল। যেহেতু থানায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই তাই তাকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।এবিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
কিন্তু আবু ইউসুফের বাবা আব্দুল খালেক বলেন, পুলিশের এই ব্যাখ্যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। একটি সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে চোর চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে থানায় আটক রেখে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানোর কথা অথচ রাতভর রাখার পরেও কোনো মামলা না দিয়ে কার স্বার্থে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো?অবশ্যই পুলিশ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অভিযুক্ত মোটরসাইকেল চোরকে বাদীকে না জানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিনহাজুল ইসলাম চৌধুরী টোপন বলেন,”সিসিটিভি ফুটেজে যে ছবি দেখা যাচ্ছে,সেই ব্যক্তিই মনোয়ার হোসেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ছবি দেখেই গত রাতে পুলিশ তাকে বাড়ী থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।সকালে শুনি,রাতেই নাকি তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।