বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের উদ্যোগে নতুন ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পরপরই নেতৃত্ব ও পদবন্টন নিয়ে হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটে, যা আন্দোলনের সার্বজনীন প্ল্যাটফর্মকে বিতর্কিত করেছে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম নতুন ছাত্র সংগঠনের জন্য শুভকামনা জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, “কিছু ব্যক্তির অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে জুলাই আন্দোলনের সার্বজনীন প্ল্যাটফর্মকে বিতর্কিত করা ঠিক হয়নি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বিচক্ষণতা দরকার ছিল। আশা করি নতুন সংগঠন শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “৩৬ জুলাই সবার। পাবলিক, প্রাইভেট, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, মাদ্রাসা (আলিয়া, কওমি), ইংলিশ মিডিয়াম, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ—সমগ্র বাংলাদেশ—সবার জন্য রাজনীতি হওয়া উচিত স্বার্থের ঊর্ধ্বে। আমাদের দেশ হোক ‘সবার বাংলাদেশ’।”
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুঃখ প্রকাশ
নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে দল ঘোষণার সময় পদবন্টন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি আব্দুল কাদের। তিনি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি এ ঘটনার জন্য লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।”
নতুন কমিটির গঠন
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার এবং সদস্যসচিব হয়েছেন জাহিদ আহসান।
নতুন কমিটিতে আরও রয়েছেন:
- সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক: তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম
- সিনিয়র সদস্যসচিব: রিফাত রশীদ
- মুখ্য সংগঠক: তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী
- মুখপাত্র: আশরেফা খাতুন
আন্দোলনের পটভূমি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
২০২৩ সালের জুলাই মাসে কোটাবিরোধী ও সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারায় এবং শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। সেই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের একটি অংশ নতুন ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে স্বীকার করি এবং ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৮, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪-এর গণআন্দোলন ও সংগ্রামী চেতনাকে ভিত্তি করে ছাত্র রাজনীতি সক্রিয় করবো। আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করা।”