বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কারোপের প্রেক্ষিতে করণীয় ঠিক করতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক হচ্ছে। তার আগমুহূর্তে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গেটে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী শনিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
এছাড়া বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন। ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ জাহেদী সত্তার, ব্যবসায়ী নাসিম মঞ্জুর, আহসান খান চৌধুরী, তপন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ব্যবসায়ীরা যে রিকমেন্ডেশন দিয়েছেন তা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক শুরু হয়েছে সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে।
বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। আরও অংশ নেবেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার হাইরিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরতেই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, আমরা কিভাবে কি লিখবো, মার্কিন প্রশাসনকে কি জানাব তা আলোচনা হবে। বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে। এ সরকার খুবই ব্যবসাবান্ধব। আমরা এমন কিছু করবো, যার ফলে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রে যে রপ্তানি আছে তার চেয়েও আরও বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে, কমবে না। এ সিদ্ধান্ত আসবেই, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের খুবই ভালো বন্ধু। তারা যেসমস্ত ইস্যূ তুলেছে তার সবগুলো নিয়ে আজকে আলাপ হবে। তরপরে নিশ্চিত থাকতে পারেন বাংলাদেশের রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশে আরও বাড়বে। কমবে না।
শফিকুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীদের মতামতকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ তারাই রপ্তানি করে, সরকার করে না। তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যেটা খুবই ব্যবসাবান্ধব হবে।