ব্যক্তিগত গাড়িতে নির্যাতন, মুক্তিপণ দাবি, অতঃপর হত্যা
হা-মীম গ্রুপের ‘দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার’ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহসান উল্লাহ হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্যউঠে এসেছে। চালক সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যা করে। হত্যার আগে মাইক্রোবাসের ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে রাখা হয়, যাতে তার চিৎকার কেউ শুনতে না পায়। হত্যার পর মরদেহ গুম করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।
পরিকল্পিত অপহরণ ও হত্যা
২৩ মার্চ আশুলিয়ার কর্মস্থল থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকার বাসায় ফিরছিলেন আহসান উল্লাহ। এ সময় গাড়িচালক সাইফুল ইসলামপূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তুরাগ এলাকায় গাড়ি থামান। তারপর সাইফুলের তিন সহযোগী নুরুন্নবী, ইসরাফিল ও সুজন গাড়িতে ওঠে আহসানকে জিম্মি করে।
প্রথমে হাত-পা বেঁধে তাকে পেছনের আসনে শুইয়ে রাখা হয়। এরপর পা দিয়ে বুক ও শরীরের বিভিন্ন অংশে নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়। আহসান মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও খুনিরা তা গ্রহণ না করে নির্যাতন চালিয়ে যায়। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
মুক্তিপণ আদায় ও লুটপাট

হত্যার আগে আহসানের ব্যাংক কার্ড থেকে মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করা হয়, যার একটি নম্বর ছিল চালক সাইফুলের স্ত্রীর নামে। এরপর নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করে। সব মিলিয়ে ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
আহসানের প্রতি সাইফুলের ক্ষোভ ছিল
প্রাথমিক তদন্তে চালক সাইফুলের ব্যক্তিগত ক্ষোভ হত্যার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
- গত আগস্টে গাড়ির একটি দুর্ঘটনায় ইন্স্যুরেন্সের টাকা পেতে সহায়তা করেছিলেন আহসান। সাইফুল মনে করেছিলেন, সেই টাকা থেকে তিনি ভাগ পাবেন, কিন্তু তা পাননি।
- মাসিক বেতনের বাইরে অতিরিক্ত সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষোভ ছিল।
- তাই মালিককে জিম্মি করে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন তিনি।
ঘটনার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তার
২৫ মার্চ দিয়াবাড়ির ১৬ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের পাশে আহসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করে—
- গাইবান্ধা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী চালক সাইফুল
- লালমনিরহাট থেকে নুরুন্নবী
- গাজীপুরের কাশিমপুর থেকে ইসরাফিল
- পরবর্তীতে সুজনকে গ্রেপ্তার
জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চালক সাইফুল ও নুরুন্নবী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা স্বীকার করেছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২ মার্চ হত্যার ছক কষে।
Police statement
র্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মুহাম্মদ আহনাফ রাসিক বিন হালিম বলেন,
“তুচ্ছ কারণে নৃশংসভাবে একজন প্রকৌশলীকে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরহাদুজ্জামান নবীন জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, ভিকটিমের মোবাইল ফোনসহ বেশকিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত দেশ
এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।