ঢাকা, শনিবার: যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবেন। এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কার্যত মার্কিন পণ্যের ওপর ৭৪% শুল্ক আরোপ করে, যার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ৩৭% ‘ডিসকাউন্টেড রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই শুল্ক বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতকে বড় আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প নেতারা।
আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের ওপর আরোপিত শুল্ক এবং আমাদের বাণিজ্যের ধরন ও কাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরবেন।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তারা এই শুল্কের বিষয়টি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমাদের ওপর আরোপিত শুল্ক এবং আমাদের বাণিজ্যের ধরন ও কাঠামো বিবেচনায় রেখে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে এই বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ মিশন এবং ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”
তিনি আরও জানান, সরকার সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজছে এবং সেইসঙ্গে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগে আরও তৎপরতা
এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা এবং অগ্রাধিকার প্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ফেব্রুয়ারির শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। তারপর থেকেই আমরা এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ক্রমাগত আলোচনা করে আসছি।”
তিনি আরও জানান, “আমরা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ করব এবং এ ব্যাপারে কোনো আতঙ্কের কারণ নেই।”
এদিকে, সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই শুল্ক ইস্যুতে অব্যাহতভাবে আলোচনার মাধ্যমে একটি সন্তোষজনক সমাধান বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।