ঢাকা, ৫ এপ্রিল:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতির আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তাঁর যমুনাস্থ বাসভবনে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত আছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ও নীতিনির্ধারকগণ।
বৈঠকে উপস্থিত আছেন— বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং এসডিজি সংক্রান্ত মুখ্য লামিয়া মোরশেদ।
প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের উদ্বেগ
গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস প্রকাশিত এক চার্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ কার্যত মার্কিন পণ্যের ওপর ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে আসছে। সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ ‘ডিসকাউন্টেড রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ ধার্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলেও বাংলাদেশ, চীনসহ কিছু দেশের জন্য তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত, যার সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া ও আশাবাদ
ঘোষণার পরপরই প্রতিক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন,
“আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারব।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন,
“এখনো আলোচনা শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী যে, এমন একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে যাতে উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হয়।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অব্যাহত কূটনৈতিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট: চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ
বাংলাদেশ ছাড়াও চীনকে ৩৪ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের আওতায় আনা হয়েছে। এতে বিদ্যমান ২০ শতাংশ শুল্ক ও অন্যান্য কর যুক্ত হয়ে চীনা পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্কের হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা রপ্তানি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
এরই জবাবে চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা আগামী ১০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রপ্তানি নির্ভর দেশের সম্পর্ক এখন নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উচিত হবে কৌশলগত কূটনৈতিক তৎপরতা, বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।
এদিকে, আজকের বৈঠকে একাধিক প্রস্তাব, সম্ভাব্য পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং রপ্তানিকারক খাতের জন্য সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।