সরকার দেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও উপবৃত্তির মাধ্যমে সহায়তা করে আসছে। তবে, গ্রামাঞ্চলের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ
বুধবার (২ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “সরকার স্কুলের ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছে অনেক বছর ধরেই। গ্রামের অনেক সহজ-সরল মানুষ বিষয়টা জানেই না। আর এর সুযোগ নিচ্ছেন কিছু দুর্নীতিবাজ শিক্ষক। ছাত্রীর অভিভাবকের বদলে তারা নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়ে উপবৃত্তির টাকা নিচ্ছেন এবং অনায়াসে সেই টাকা আত্মসাৎ করছেন।”
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উদ্বেগ
ঈদের ছুটিতে তিন দিন গ্রামে থাকার সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানতে পারেন তিনি। তবে, ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা লুটের ঘটনা শুনে তিনি স্তম্ভিত হন। তিনি আরও জানান, তার পাশের গ্রামের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে দুর্নীতির ঘটনা ধরা পড়ার পর এক শিক্ষিকা দাবি করেছেন, ছাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা স্কুলের উন্নয়ন তহবিলে দান করা হয়েছে।
উপ-প্রেস সচিব এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান
এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধে নাগরিকদের ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “আপনারা যারা গ্রামে আছেন, আপনার পাশের স্কুলের খবর নিন। গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। কোনো অপকর্মের হদিস পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান।”
উপবৃত্তি কর্মসূচির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশে ছাত্রীদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে ১৯৮২ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে উপবৃত্তি চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে চারটি প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়া শুরু হয়।
২০০২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও উপবৃত্তি চালু হয় এবং ২০০৯ সালে দরিদ্র পরিবারের ছেলে শিক্ষার্থীদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে ‘সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাচ্ছে।
উপবৃত্তি আত্মসাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জরুরি
বিশ্লেষকদের মতে, উপবৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করা, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সরকারের দেওয়া উপবৃত্তির টাকা যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের আরও নজরদারি প্রয়োজন।