Staff Correspondent:
ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সক্রিয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসেইন।
তাঁর উদ্যোগে তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যা-সংকটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা এলাকার খাল ও মাঠ রক্ষায় মানববন্ধন করেছেন। ১৫ মার্চ আয়োজন করেছেন ইফতার মাহফিল।
ঈদুল ফিতরের সময় জনসংযোগের আরও বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে তার। তিনি ঢাকা-১৩ আসন (মোহাম্মদপুর–আদাবর এলাকা) থেকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান।
আকরাম জানান, ঈদের আগে চাঁদরাতে ঢাকা-১৩ আসনে তার উদ্যোগে মিছিল হবে। ঈদের দিন মোহাম্মদপুর এলাকায় জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নির্বাচনী এলাকার মসজিদগুলোতে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
আকরামের মতো আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তরুণদের নতুন দল এনসিপির আরও অনেকে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশি আলোচিত হয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই নিজ এলাকা নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বেশ সক্রিয় হন তিনি। এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা সমাধানেও তিনি কাজ করছেন।
এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাবেশ করছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে জনসংযোগ জোরদার হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি শতাধিক গাড়িবহর নিয়ে নিজের জেলায় নির্বাচনী প্রচারাভিযানে গিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ সংসদীয় আসন থেকে তিনি সংসদ নির্বাচন করতে চান। এখন নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক করছেন, মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ঈদেও সারজিসের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
দেবীদ্বার উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। গত কয়েক মাসে এলাকায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন হাসনাত। হাসনাত নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গেই ঈদ করবেন বলে জানা গেছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী আসনকেন্দ্রিক তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান না হলেও ঢাকা-১১ আসন থেকে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা, বনশ্রী এলাকা (ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২১, ২২, ২৩, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড) নিয়ে গঠিত এই আসনটি। নাহিদের বাড়ি ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে।
দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। নির্বাচনী এলাকায় আখতারের যাতায়াত আছে। ঈদকেন্দ্রিক জনসংযোগেও দেখা যেতে পারে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ২৬ মার্চ নিজ এলাকা চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, তরুণদের চোখ এখন জাতীয় সংসদের দিকে।
৫ আগস্টের মতো ‘টেকনিক’ (কৌশল) ব্যবহার করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের বড় একটি অংশ বিজয়ী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী নাসীরুদ্দীন।
ভোলা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। গত কয়েক মাসে ভোলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান-বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা) দলের প্রার্থী হতে পারেন।
ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান এনসিপির আরেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। এই আসনটি ঢাকার উত্তর সিটির ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড ও সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার নরসিংদী থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। গত কয়েক মাসে তিনি নরসিংদীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। নরসিংদী-২ আসনেকেন্দ্রিক তৎপরতা তার বেশি। ঈদের দিন তিনি নিজ এলাকায় শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-১ আসনে প্রার্থী হতে চান। সেই লক্ষ্যে এলাকার মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াচ্ছেন তিনি। ঈদেও এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে দেখা যেতে পারে।
দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। সেই লক্ষ্যে এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রাখছেন নিয়মিত যোগাযোগ।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহাদী সরাইল ও আশুগঞ্জ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র।
মুফতি আমিনী ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। সেই আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চাইছেন তাঁর দৌহিত্র।
বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চান মাহিন সরকার। এনসিপির এই যুগ্ম সদস্যসচিব নিজের এলাকায় ইফতারসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
বাঁশখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৬ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক। সেই লক্ষ্যে বাঁশখালীতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ঈদেও বাঁশখালীর মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-১ সংসদীয় আসনে এনসিপির প্রার্থী হতে চান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ। তিনিও এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের আসনকেন্দ্রিক সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এনসিপির আরও অনেক নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আতিক মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম), প্রীতম দাশ (মৌলভীবাজার), আবদুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ), হাসান আলী (চট্টগ্রাম), অর্পিতা শ্যামা দেব (সিলেট), মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন (পটুয়াখালী), ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু (খুলনা), কৈলাস চন্দ্র রবিদাস (নওগাঁ), এহতেশাম হক (সিলেট), সাইফুল্লাহ হায়দার (টাঙ্গাইল), মাহমুদা আলম মিতু (বরিশাল), মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান (চুয়াডাঙ্গা), জয়নাল আবেদীন শিশির (কুমিল্লা), আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল (ভোলা), আরিফুর রহমান তুহিন (ঝালকাঠি), মোহাম্মদ আতাউল্লাহসহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) অনেকেই।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, আমরা চাইব, যেকোনোভাবেই হোক ৩০০ আসনেই যেন আমাদের একটা অবস্থান প্রকাশ করা যায়, যাতে এনসিপির নাম প্রত্যেক এলাকায় পৌঁছে যায়। তবে এনসিপি এখনো গণপরিষদ নির্বাচন চাইছে বলে জানান তিনি।