বেসরকারি ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে গেছে জনগণের রায়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। কিন্তু ভোট শেষ হওয়াই সব নয়; এখন শুরু হচ্ছে সরকার গঠনের আসল সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। কবে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত এমপিরা? আর ঠিক কোন দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তারেক রহমান? ক্ষমতা হস্তান্তরের এই জটিল সমীকরণ চলুন সহজ করে বুঝে নেওয়া যাক।
সংবিধান অনুযায়ী, বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করলেই শপথ নেওয়া যায় না। নিয়ম হলো, নির্বাচন কমিশনকে প্রতিটি আসনের ফলাফল দিয়ে একটি ‘সরকারি গেজেট’ প্রকাশ করতে হবে। আর এই গেজেট প্রকাশের ৩ দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
তবে এবার শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে। সাধারণত স্পিকার নবনির্বাচিতদের শপথ পড়ান। কিন্তু যেহেতু বর্তমান সংসদে স্পিকার নেই, তাই আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী— রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো প্রতিনিধি বা প্রয়োজনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে মূল প্রক্রিয়া। সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সেই ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি সংসদের অধিকাংশ সদস্যের আস্থাভাজন। যেহেতু বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তাই তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাঁকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।
সংবিধানের ৭২(২) অনুচ্ছেদ বলছে, ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকতে হবে। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে বা মার্চের শুরুতেই আমরা নতুন সংসদ ও নতুন মন্ত্রিসভাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে দেখতে পারি।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—নতুন সরকার গেজেট আর শপথের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করবে।

