মুন্সিগঞ্জের শান্ত গ্রাম চরবাংলাবাজারে মনির মোল্লার জীবন কেটেছে অনেকটা নিরিবিলি। বয়সের ভার পড়লেও তিনি স্ত্রী তন্দ্রি বেগমকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। তাঁদের তিন ছেলে কাজের কারণে ঢাকায় থাকতেন, তাই স্বামী–স্ত্রী দুজনেই বেশির ভাগ সময় একাই দিন কাটাতেন।
গত বুধবার সকালে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে মনির মোল্লা ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। সকাল গড়িয়ে যখন প্রায় ১০টা বাজে, তখন দুজনেই সিদ্ধান্ত নেন বিষয়টি মীমাংসা করবেন। তাই তারা যান তন্দ্রি বেগমের খালাতো ভাই নিজাম মিজি–এর বাড়িতে, যেখানে স্থানীয়ভাবে সালিস বসে।
সালিসে শুরুতে বিষয়টি শান্তভাবেই চলছিল। কিন্তু একপর্যায়ে কথাবার্তা তর্কে রূপ নেয়। তর্কের মধ্যে মনির মোল্লা ও নিজাম মিজির মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর নিজাম মিজি ও তাঁর এক সহযোগী মনির মোল্লাকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রথমে তাঁকে নেওয়া হয় মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল–এ। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা তখনই খুব সংকটাপন্ন ছিল।
মনির মোল্লার চাচাতো ভাই মহসিন মোল্লা বলেন, ভাই-ভাবির ঝগড়া মীমাংসার জন্য তারা সালিসে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিচারের বদলে সেখানে মারধরের শিকার হতে হলো। তাঁর অভিযোগ, মারধরের সময় মনির মোল্লার অণ্ডকোষও চেপে ধরা হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার সময়ই তাঁর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে ঢাকার ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় তাঁর ছেলের বাসায় অসুস্থ অবস্থায় মনির মোল্লা মারা যান।
বেলা তিনটার দিকে মহসিন মোল্লা জানান, মনির মোল্লার মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ–এ রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। এদিকে অভিযুক্ত নিজাম মিজির বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
মমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
একটি পারিবারিক ঝগড়া মীমাংসা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হারাতে হলো একটি জীবন—চরবাংলাবাজারের মানুষের মনে এই ঘটনাটি রেখে গেছে গভীর শোক ও প্রশ্ন।

