জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে রায়ের বাজার কবরস্থানে দাফন করা শহীদদের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক।
সোমবার রাজধানীর রায়ের বাজার কবরস্থানে সিআইডি আয়োজিত ‘২০২৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহ পরিচয় শনাক্তকরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, ওই কবরস্থানে দাফনকৃত মোট ১১৪ জন শহীদের মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নয়টি পরিবারের কাছ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, “অত্যন্ত কঠিন ও সংবেদনশীল এই কাজটি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে শহীদদের পরিবার অন্তত জানতে পারছেন তাঁদের প্রিয়জন কোথায় শায়িত আছেন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী এবং শহীদ সোহেল রানা’র মা।
উপদেষ্টা ফারুক ই আজম আরও জানান, মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসরণ করে ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। যা নিখোঁজ শহীদদের পরিচয় নির্ধারণ, পরিবারগুলোর অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যতের বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত হবে।
অনুষ্ঠান শেষে শনাক্ত হওয়া শহীদদের কবর তাদের নিকট আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কবরস্থানে শহীদদের স্মরণে গাছের চারা রোপণ, নামফলক উদ্বোধন এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

