আবুল কাশেম রুমন,
সিলেটে অবশেষে ঈদের বাজারে জমে উঠেছে ক্রেতাদের ভিড়। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে প্রতিদিন দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতারা কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেটের বেশির ভাগ মানুষ প্রবাসী, যাদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন। এই বছরের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা সময়মতো বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেননি। ফলে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ কিছুটা কমে গেছে এবং অনেকে দেরিতে কেনাকাটা করতে এসেছেন।
ঈদের কেনাকাটার কারণে নগরীতে যানজটও বেড়েছে। পুলিশের তৎপরতায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, সোমবার বিকাল ও রাতের সময় আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় যানজট ও ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়েছে।
বাজারগুলোকে আকর্ষণীয় করতে নানা রঙের আলোকসজ্জা ব্যবহার করা হয়েছে। পরিবারসহ ক্রেতারা ছোট সদস্যদের জন্য পোশাক দেখে দরদাম করছেন। কিশোর ও তরুণেরা জুতা বা পোশাক ট্রায়াল করছেন, ভালো না লাগলে নতুন জিনিস খুঁজে নিচ্ছেন।
শহরের নামিদামি ব্র্যান্ড ও আধুনিক শপিংমলে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি। আর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতারা বন্দরবাজারের বিভিন্ন হাসান মার্কেটে বেশি ভিড় জমাচ্ছেন।
জিন্দাবাজারে পরিবারের সঙ্গে আসা ১২ বছর বয়সী আবিদা হক বলেন, “ঈদের জন্য নতুন ড্রেস কিনেছি। এখন জুতা কিনব, তারপর সাজার জিনিস। দোকানে মানুষের ভিড় থাকায় একটু দেরি হচ্ছে। তবে ঈদের বাজারে এসে ভালো লাগছে।”
বন্দরবাজারের হাসান মার্কেটের কর্মচারি মাসুক আহমদ জানান, “সিলেটে ১৫ রমজানের পর থেকেই ঈদের বাজার শুরু হয়। এবার মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের পোশাকের চাহিদা বেশি। জুতার দাম গড়ে ২০–৩০ শতাংশ এবং প্রসাধনীর দাম ১৫–২০ শতাংশ বেড়েছে।”
যানজটের কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে। বিভিন্ন মোড়ে গাড়ি আটকে থাকার কারণে লোকজনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

