সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে জেলার ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই বিদেশে চলে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এসব শিক্ষককে পলায়নের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ছাড়া আরও ৩৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য বলছে,বিদেশগামী শিক্ষকদের বড় একটি অংশ নারী।
মৌলভীবাজারে মোট ১ হাজার ৬১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে,যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ১ হাজার ৫২টি। বর্তমানে এখানে ৫ হাজার ১৫৬ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২২৩টি। শিক্ষকরা বিদেশে চলে যাওয়ায় এই ঘাটতি আরও প্রকট হচ্ছে।
পতনঊষার বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা খানম জানান,সহকর্মী শেখ সায়মা আজিজ কোনো ছুটি ছাড়াই বিদেশে চলে গেছেন। “তিনি যুক্তরাজ্যে গেছেন বলে শুনেছি। তাঁর পরিবর্তে এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সংকট নিয়েই ক্লাস চালাতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস খান। তাঁর ভাষায়,“সহকারী শিক্ষক ইসরাত জেরিন অসুস্থতার অজুহাতে ছুটি নেন,পরে বিদেশে চলে যান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত একজনকে পাঠানো হলেও তিনি যোগদান করেননি।”
রাজনগর উপজেলার চাটুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাবেরী রানী দেব চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে বিদেশে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। এভাবে ছুটি নিয়ে ফেরত না আসার ঘটনাই বেড়ে চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের।
মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম বলেন,“আমি যোগদানের পর চলতি আগস্ট পর্যন্ত ২৯ জনকে পলায়নের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করেছি। এর বাইরে আরও চারজনকে বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৮ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,তাঁরা আর চাকরিতে ফিরতে পারবেন না।”
তিনি আরও জানান,শিক্ষকদের বিদেশগমন দিন দিন বাড়ছে,যা জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় সংকট তৈরি করছে।