সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

অর্থনীতি

এক লাফে কমলো সোনার দাম

এক লাফে কমলো সোনার দাম

জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন ঘটেছে। টানা তিন সপ্তাহ ধরে দরপতনের ধারাবাহিকতায় দাম আরও নিচে নেমেছে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৪.৩১ ডলারে নেমে আসে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম ০.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৩৭৫ ডলারে লেনদেন হয়।সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে চাপ:  ফেডের কড়া অবস্থান: সিএমই ফেডওয়াচ (CME FedWatch) টুলের তথ্য মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে ৮৬.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ও মৌলিক সূচক চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকিছেন। স্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে চলতি শুক্রবার ব্যাংক অব জাপানও (BOJ) সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।  কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, তেল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর গুঞ্জন স্বর্ণের ওপর বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। যেহেতু স্বর্ণ কোনো নির্দিষ্ট সুদ বা লভ্যাংশ দেয় না, তাই উচ্চ সুদের হারের বাজারে এতে বিনিয়োগের আকর্ষণ সাময়িকভাবে কমে যায়।  বাড়ছে তেলের দাম  সোনার দাম কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক দিনেই ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে:সৌদিতে হামলা ও পাইপলাইন বন্ধ: সৌদি আরবে হুথিদের নতুন হামলা এবং সে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের ভীতি জোরালো হয়েছে।  

চেনা চিত্র বদলে ভারত থেকে আসছে ইলিশ

এবার উল্টে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইলিশ বাণিজ্যের চেনা চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে ভারত বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বাজার ছিল। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হতো। কিন্তু এবার বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উল্টো ভারত থেকেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে—দেশটির মৎস্য ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। বাংলাদেশে চলতি বছর ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের পদ্মার ইলিশ বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই সংকটের কারণে কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রচলিত বাণিজ্যপথের বাইরে গিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছেন। ভারত থেকে আসা ইলিশের বড় অংশ গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভরুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছবাজার হয়েও গেছে। হাওড়া হোলসেল ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে বোয়াল, রুই, পারসে ও ট্যাংরা মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। গুজরাটের ইলিশে প্রচুর ডিম বা রো থাকায় ভারতের বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক কম। কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ডিমভরা ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মাকসুদ বলেন, এসব ইলিশের ডিম আলাদাভাবেও বিক্রি করা হচ্ছে। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে অন্য দেশেও পুনরায় রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে শুধু গুজরাট নয়, পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার ও কোলাঘাট থেকেও মাঝারি আকারের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান এসেছে গুজরাট ও মুম্বাই থেকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ৪৫০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। রোববারও প্রায় ১০ টন ইলিশ নিয়ে দুটি চালান এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা শুরুতে এসব চালানের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানোর খবর প্রকাশ হলে বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু রপ্তানিকারক প্রথমে দাবি করেছিলেন, ইলিশ রপ্তানির কোডের অধীনে পাঠানো চালানে সামুদ্রিক মাছ থাকতে পারে। পরে পেট্রাপোলের ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কাস্টমসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে সত্যিই ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৎস্য ব্যবসায়ীদের মতে, সীমান্তের দুই পাশেই ইলিশের সংকট এই অস্বাভাবিক বাণিজ্যের অন্যতম কারণ। অনিয়মিত বাতাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরায় ব্যাঘাত ঘটেছে। এতে ইলিশের আহরণ কমার পাশাপাশি জেলেদের লোকসানও হয়েছে। এক ভারতীয় রপ্তানিকারক বলেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আরব সাগর ও নর্মদা নদীর মোহনা থেকে পাওয়া ইলিশ সংগ্রহ করছেন। এসব মাছ দেখতে ভালো হলেও মিঠাপানির ইলিশের মতো সুস্বাদু নয়। তবে পদ্মার ইলিশের তুলনায় দাম কম হওয়ায় এবং বাজারে ব্যাপক সংকট থাকায় ব্যবসায়ীরা এগুলো আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানির এই পরিবর্তন এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। গত বছর বাংলাদেশ ভারতকে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছায় মাত্র ১৪৩ দশমিক ৮০ টন। এর আগের দুই বছরেও ভারতে ইলিশ আমদানি ৬০০ টনের নিচে ছিল। মূলত বেশি দামের কারণে আমদানিকারকেরা অনেক চালান নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। এবার কলকাতার মাছ আমদানিকারকেরা বাংলাদেশকে আবার ইলিশ রপ্তানি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। শহরভিত্তিক একটি সংগঠন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে। বাংলাদেশি মাছ ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তারেক রহমানের সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। সেই দেশের বাজারে ইলিশের ঘাটতি মেটাতে এবার প্রতিবেশী ভারত থেকেই ইলিশ আসছে। বিষয়টিকে তাই শুধু বাণিজ্যের উল্টো স্রোত নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ইলিশ-সম্পর্কেরও এক অস্বাভাবিক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারত এখন বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করছে, এটি অবশ্যই গর্বের বিষয়। তবে আমার ইচ্ছা, ইলিশ যেন চিরকাল দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে থাকে।’

চেনা চিত্র বদলে ভারত থেকে আসছে ইলিশ

সেপ্টেম্বরে ১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি

চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে দেশে ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এ হিসাব করা হয়েছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২১ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ৯ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো ২৮ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে।ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মাধ্যমে। ব্যাংকটি ২২ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেছে।দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৯ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার নিয়ে তৃতীয় এবং ব্র্যাক ব্যাংক ৯ কোটি ১২ লাখ ৬০ হাজার ডলার নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে ১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি

বেনাপোল দিয়ে দেদারসে আমদানি হচ্ছে ভারতীয় ইলিশ

ভারত ও মিয়ানমারের ইলিশ দেদারসে আমদানি হচ্ছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। ৫০০ টাকায় কেনা ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ পদ্মার ইলিশ বলে ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বেনাপোল, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। আগে ভারতে রপ্তানি হতো পদ্মার ইলিশ। এখন ভারত থেকে আমদানি হচ্ছে শত শত কেজি ভারতীয় ইলিশ। দেশের কয়েকজন আমদানিকারক এই ইলিশ আমদানি করছে।কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে এসেছে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা এসব ইলিশের মূল্য দেখানো হয়েছে মোট ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। জুলাইয়ে আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং আগস্টে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। দুই মাসে ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিস ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ মোট ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন।ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে আমদানি করা ইলিশের দাম পড়ছে প্রতিকেজি ২৫২ টাকা, সরকারি শুল্ক ১৬২ টাকা, ট্রাক ভাড়া, এলসি খরচসহ অন্যান্য খরচ আরো কেজিকে ১০০ টাকা ধরলে মোট দাম পড়ে কেজিতে ৫১৪ টাকা। সেই মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সেই মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে  ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজিতে।শুধু বাংলাদেশে নয় পশ্চিমবঙ্গের বাজারগুলোতে প্রবেশ করেছে টনের পর টন গুজরাট, মুম্বাই ও মিয়ানমারের ইলিশ। কিন্তু ‘স্বাদ ও গন্ধহীন’ এসব মাছকে বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ পরিচয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ইলিশ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বাজারে গেলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা ভারত-মিয়ানমারের ইলিশকে বাংলাদেশি পদ্মার ইলিশ বলে ব্যাগে দিয়ে দিচ্ছে। বাড়িতে নিয়ে রান্নার পর দেখছেন, সেই সেই ইলিশে নেই কোনো স্বাদ, নেই সুস্বাদু গন্ধ। দেশি ইলিশের সঙ্গে দেখতে প্রায় একই রকম। আকারেও বড়। অথচ দামে প্রায় অর্ধেক। বেনাপোল যশোরসহ দেশের বিভিন্ন মাছের বাজারে এমন ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এসব মাছ ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ নামে পরিচতি। অনেকে রোহিঙ্গা ইলিশ বলেও প্রচার করে। বাজারে বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা বিপুল। দামও তুলনামূলক ভাবে বেশি। সেই সুযোগে অনেক ব্যবসায়ীই ভারত ও মিয়ানমার থেকে মাছ আমদানি করে এনে ‘পদ্মার ইলিশ’ বলে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ।ক্রেতাদের অভিযোগ দেশি ইলিশ মনে করে এসব মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। স্বাদ ও গন্ধে দেশি ইলিশের সঙ্গে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাকে তা জানানো হচ্ছে না। এই চাহিদার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু মাছ ব্যবসায়ী ক্রেতাদের ঠকাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন। মাছ ভাল ভাবে পরীক্ষা করেই আমরা কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকি।মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও মিয়ানমারের এসব মাছ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। তবে বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয় ইলিশ। মিয়ানমার থেকে যে ইলিশ আসছে সেগুলো চট্রগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। তবে বাজারে মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন। এসব মাছকে রোহিঙ্গা মাছ বলাও হয়ে থাকে।এদিকে একটি সূত্রের দাবি অনেক ইলিশ অবৈধভাবেও দেশে এসেছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষনা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টুন (প্রায় ৩৬০ কেজি) ভারতীয় ইলিশ মাছ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।বেনাপোল বাজারে ইলিশ কিনতে আসা মো. মহিউদ্দিন  বলেন, দেশি ইলিশ মনে করেই তিনি একটি মাছ কিনেছেন। পরে খাওয়ার পর বুঝতে পারেন, মাছটির স্বাদ ও গন্ধ দেশি ইলিশের মত নয়। তার অভিযোগ দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারন ক্রেতাদের পক্ষে বিদেশি ও দেশি ইলিশের পার্থক্য বোঝা কঠিন।আরেক ক্রেতা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কখনও চাঁদপুর, কখনও বরিশাল, কখনও চট্টগ্রামের ইলিশের নাম করে তারা ইলিশ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ ইলিশগুলি সবই ভারতীয় ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা। এক শ্রেণির মাছ ব্যবসায়ী চড়া দামে বিক্রি করছেন। এর ফলে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। আমরা চাই আইন মোতাবেক অভিযুক্ত মাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুক প্রশাসন। অবিলম্বে এ সব বন্ধ করতে হবে।বাজারের ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে। বিপরীতে একই ওজনের কথিত ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ আকারে বড় হলেও বিদেশি ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাদের একটি বড় অংশ কম দামের মাছের দিকে ঝুঁকছেন।নাভারন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী যাদব হালদার বলেন, এসব মাছ ভারত ও মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে আসছে বলে তিনি শুনেছেন। তাদের দাবি বাগআচড়ার কুদ্দুস ও বেনাপোলের জাফর নামের দুই ব্যক্তি এসব মাছ আমদানি করছেন। তবে মাছ গুলো এলসির মাধ্যমে বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে। তবে দেশের বাজারে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ আমদানির ফলে দেশি ইলিশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে তিনি জানান।বেনাপোল বাজারের দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী উৎস্য মন্ডল, বাবু, মাহাবুব, মোস্তাফিজুর, পরিতোষ বিশ্বাসসহ কয়েকজন বলেন, কম দামে বড় আকারের এসব বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারা দামের পার্থক্যের কারণে বিদেশি ইলিশ কিনছেন। এতে প্রকৃত দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিদেশি ইলিশকে দেশি ইলিশের নামে বিক্রি করা হলে একই সঙ্গে দুইটি পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা এবং বাজার হারাচ্ছেন দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরা।এ বিষয়ে আমদানিকারকের সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, আমরা বৈধ ভাবে এলসির মাধ্যমে সরকারি শুল্ক পরিশোধ করে ভারত থেকে ইলিশ মাছ আমদানি করেছি। সেটা বাজারে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে থাকি। তারা এই মাছ বাজারে বিক্রি করে। বাজারের ব্যবসায়ীরা কি বলে বিক্রি করে সেটা তাদের বিষয়। আমরা ভারত থেকে আমদানি করি এটা সবাই জানে।এদিকে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, বিদেশি ইলিশ দেশি বলে বিক্রি করা হলেও বাজারে ভোক্তা অধিকার বা প্রশাসনের কোন নজর নেই। এসব মাছ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। মাছগুলো আদৌ ইলিশ কি না, কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং সেগুলোর উৎসের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখা দরকার।

বেনাপোল দিয়ে দেদারসে আমদানি হচ্ছে ভারতীয় ইলিশ

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে টানা তিন দফা দাম কমার পর আবারও স্বর্ণের মূল্য বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বাড়ার প্রেক্ষাপটে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা ভরি। আর ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির মূল্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। ওই সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।পুরোনো অলংকার বদলের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম থাকবে। এসব লেনদেনের ক্ষেত্রেও আলাদাভাবে ভ্যাট কর্তনের সুযোগ নেই।বাজুসের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নির্ধারিত মূল্যেই স্বর্ণ বিক্রি হবে।

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

টানা ৩ দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম

টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। একই দিন সকাল ১০টা থেকে এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেই অনুযায়ী স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন মূল্য তালিকায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা করা হয়েছে।এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর ও ৬ সেপ্টেম্বরও দুই দফায় দাম কমানো হয়।বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।পুরোনো অলংকার বদলের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দেওয়ার পর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম বহাল থাকবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য কার্যকর থাকবে।

টানা ৩ দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছে। ফলে এখন থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায়।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেজাবী স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন মূল্যসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অলংকারের নকশা ও ধরন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।অন্যদিকে, অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম বহাল থাকবে। এক্সচেঞ্জ বা পারচেজের সময় আলাদাভাবে ভ্যাট কর্তনের সুযোগ থাকছে না।বাজুসের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি দোকানে এই নির্ধারিত দরেই স্বর্ণ বিক্রি করতে হবে।

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

বাংলা কিউআরে বাড়ছে লেনদেন, সপ্তাহে ছাড়াল ৭০০ কোটি টাকা

‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর দেশে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, বর্তমানে এই ব্যবস্থায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। সাপ্তাহিক লেনদেনের পরিমাণও ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।লেনদেনের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ দুই দিক থেকেই বাংলা কিউআরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হলেও আগস্টের মাঝামাঝি তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে। একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় তিন গুণ হয়েছে।চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশে বাধ্যতামূলকভাবে ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কিউআর কোডের বদলে বাংলা কিউআরের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ছোট দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের কিউআর ব্যবহারের সুযোগ পান।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আগস্টের মাঝামাঝি দৈনিক লেনদেন বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে পৌঁছায় এবং অর্থমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ থাকলেও পরে তা বেড়ে ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে এই লেনদেন ৭০০ কোটি টাকার বেশি।তিনি বলেন, এই লেনদেনের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যতবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি করে একজন ব্যবসায়ী যদি ৯৯ টাকা পান, তাহলে এক টাকা কেন কম পাবেন এমন প্রশ্ন তার মনে আসতেই পারে। তবে ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে ব্যবসায়ীদের বিক্রির পরিমাণও বাড়তে পারে।আরিফ হোসেন খান জানান, নগদবিহীন লেনদেনকে আরও উৎসাহিত করতে ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকির বিষয়টিও বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধরনের উদ্যোগের পর বাংলা কিউআরে লেনদেনের গতি আরও বেড়েছে বলেও জানান তিনি।একটি কিউআর কোড দিয়েই বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব থেকে টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে গ্রাহকদেরও সুবিধা বেড়েছে। আগে নির্দিষ্ট সেবার কিউআর কোড না থাকায় অনেক দোকানে পেমেন্ট করতে সমস্যায় পড়তে হতো। এখন একটি কোড স্ক্যান করেই পছন্দের ব্যাংক বা এমএফএস হিসাব থেকে টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।ব্যবসায়ীদের জন্যও নগদ টাকা রাখার ঝুঁকি কমেছে। বিশেষ করে বেশি দামের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কিউআরের মাধ্যমে দ্রুত ও সহজে অর্থ নেওয়া যাচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীরা আবার খুচরা টাকার সংকট থেকেও কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।সব মিলিয়ে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমানো, গ্রাহকের পেমেন্ট সহজ করা এবং ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত করাই বাংলা কিউআরের অন্যতম লক্ষ্য। সাম্প্রতিক লেনদেনের তথ্য বলছে, দেশের দৈনন্দিন কেনাবেচায় অভিন্ন কিউআর ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাংলা কিউআরে বাড়ছে লেনদেন, সপ্তাহে ছাড়াল ৭০০ কোটি টাকা

আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকায়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে।বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে কমেছে ১ হাজার ১০৮ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে প্রতি ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪০ টাকা করা হয়েছে।এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি কমেছে ৭০০ টাকা; নতুন দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা ও মানের ওপর ভিত্তি করে মজুরির হার কমবেশি হতে পারে।

আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

সরকারি চাকরিতে মোবাইল ভাতার সুবিধা বাড়ছে

প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে মোবাইল ভাতার আওতায় আসছেন। এতদিন এ সুবিধা পেতেন পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা। সরকারি দাপ্তরিক কাজে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়। বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পান। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা মোবাইল ভাতার সুপারিশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডে ১ হাজার ৫০০, চতুর্থ-পঞ্চম গ্রেডে ১ হাজার, ষষ্ঠ-দশম গ্রেডে ৫০০ এবং ১১তম-বিংশ গ্রেডে ৪০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। এই হারে ভাতা বাস্তবায়ন করা হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতে পারত। তবে সচিব কমিটি ভাতার আওতা সব গ্রেডে রাখার বিষয়ে একমত হলেও হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন। সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে সব স্তরের কর্মচারীকেই মোবাইল ব্যবহার করতে হয়। তাই সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় আনা যৌক্তিক হলেও সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে বেতনস্কেলজাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংশ্লেষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি কার্যকর করা হবে। নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী। এ ছাড়া প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর আওতায় আসবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতানতুন বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

সরকারি চাকরিতে মোবাইল ভাতার সুবিধা বাড়ছে

কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে আসা গমের চালান জাহাজ ও শস্য রপ্তানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে এশিয়ার গম আমদানিকারকেরা বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে অন্তত ৫ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার চুক্তি করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম আমদানিকারক ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকেরা বিকল্প উৎস থেকে গম কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিচ্ছেন। কারণ, এসব দেশের কয়েকটি তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গম আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এশিয়াভিত্তিক এক ব্যবসায়ী—যার প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের ময়দা ও আটা উৎপাদনকারীদের গম সরবরাহ করে—বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জরুরি চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার গম কেনার বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে যেসব চালান এখনো পৌঁছায়নি, সেগুলোর পরিবর্তে আমদানিকারকরা বিকল্প চালান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বন্দর ও জাহাজে হামলার কারণে শস্য টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গম আমদানিকারকরা সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছেন। রপ্তানি মৌসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে এসে এই পরিস্থিতিতে কয়েক ডজন গমের চালান পাঠানো বিলম্বিত হয়েছে বা বাতিল করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃষিপণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এডিএম গত বুধবার জানায়, ৩১ আগস্ট একটি ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ওদেসায় তাদের ইউইপি শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম হোয়াইট গমের জন্য ক্রেতারা প্রতি টনে প্রায় ৩১৫ থেকে ৩৩০ ডলার দাম দিয়েছেন। এই দামের মধ্যে পণ্য ও পরিবহন খরচ, অর্থাৎ কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার গমের চুক্তি হয়েছে প্রতি টনে প্রায় ৩১০ থেকে ৩১৫ ডলারে। এই দাম আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে পৌঁছানোর কথা থাকা বেশিরভাগ কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গমের চালানের দামের তুলনায় অনেক বেশি। ওই চালানগুলো সাধারণত প্রতি টনে প্রায় ২৬০ থেকে ২৮০ ডলারে বুক করা হয়েছিল। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড বা সিবিওটি-তে গমের বেঞ্চমার্ক ফিউচার জুনের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম সরবরাহে ঘাটতি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোর গমের নগদ বাজারের দামও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার সিবিওটির গমের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পেছনে ছিল মস্কো কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলা বন্ধে একটি সাময়িক স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়াম প্রত্যাখ্যান করেছে এমন খবর এবং রাতভর ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানোর ঘটনা। এশিয়ার শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহের জন্য প্রায় ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গম বুক করেছে। এই পরিমাণ এশিয়ার মোট আমদানি চাহিদার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। তবে ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচলের বিলম্বের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে যে, বুক করা গমের একটি অংশ হয়তো শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে না। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম আমদানি করে। এদিকে, ক্রেতারা অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে বড় পরিমাণে গম নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ কনটেইনারে করে গম আনার পথও বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এশিয়াভিত্তিক দ্বিতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কিছু ময়দা উৎপাদনকারী কনটেইনারে গম আনা পছন্দ করছেন। কারণ তারা সরবরাহকারীদের সঙ্গে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের চালান আরও কিছুদিন দেরিতে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা বেশি দামের গমের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে তারা কনটেইনারে করে গম আনছেন।’

কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

কমিশনের প্রস্তাবে কাটছাঁট, অনুমোদন পেল নতুন পে স্কেল

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে কিছুটা পরিবর্তন এনে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। তবে কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় প্রথম, অষ্টম ও নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতনে সংশোধন করা হয়েছে।গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হবে। তবে নতুন বেতনের পুরো আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। তিন ধাপে মূল বেতন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর বাড়িভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনার সময় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেয় সচিব কমিটি। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনের ব্যবধানও পুনর্বিবেচনা করা হয়।বর্তমান কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতনের অনুপাত ছিল ১:৯ দশমিক ৪৫। নতুন স্কেলে সেটি কমিয়ে ১:৭ দশমিক ৮ করা হয়েছে।সচিব কমিটির সুপারিশে কমিশনের প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। প্রতিটি গ্রেডের ধাপ সংখ্যাতেও কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা প্রারম্ভিক বেতন নির্ধারণের প্রস্তাবও অপরিবর্তিত রয়েছে।তবে প্রথম গ্রেডে কমিশনের প্রস্তাবিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন ৪ হাজার টাকা কমানো হয়েছে।অষ্টম ও নবম গ্রেডেও কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বৃদ্ধির হার কমেছে। এ দুটি গ্রেডে কমিশন প্রারম্ভিক বেতন ১০৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সচিব কমিটি সেটি কমিয়ে ১০০ শতাংশ করার সুপারিশ করে, যা চূড়ান্ত কাঠামোয় বহাল রয়েছে।অন্য গ্রেডগুলোতে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রারম্ভিক বেতন বৃদ্ধির হার রাখা হয়েছে।নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা।চতুর্থ গ্রেডের বেতন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা এবং পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা করা হয়েছে। ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।অষ্টম গ্রেডে ৪৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা এবং নবম গ্রেডে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা হয়েছে। দশম গ্রেডে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।১২তম গ্রেডে মূল বেতন ২৪ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং ১৩তম গ্রেডে ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৪তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা করা হয়েছে।১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়েছে।সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা।নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ১২তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশ, ১৩তম গ্রেডে ১১৮ শতাংশ এবং ১৪তম গ্রেডে ১৩০ শতাংশ।১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১৩৫ শতাংশ। ১৭তম গ্রেডে ১৩৮ শতাংশ এবং ১৮তম গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৯তম গ্রেডে ১৪১ শতাংশ এবং ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানো হয়েছে।বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হারও জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে বার্ষিক বৃদ্ধি ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে।

কমিশনের প্রস্তাবে কাটছাঁট, অনুমোদন পেল নতুন পে স্কেল

কৃষকের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণকারী মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের এ বড় পদক্ষেপের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।অর্থমন্ত্রী জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া ঋণ ও তার ওপর অর্জিত সুদ বাবদ বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা মোট ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করেছে।এই বিশেষ কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা সুবিধা পেয়েছেন।একই আসনে চুয়াডাঙ্গা জেলায় করদাতার সংখ্যা সম্পর্কিত অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জেলাটিতে টিআইএন (TIN) ধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন করদাতা।

কৃষকের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ

ছোট খরচে ডিজিটাল ঋণের নতুন সুবিধা, মিলবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

জরুরি ও প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ডিজিটাল ঋণ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামের এই সুবিধা রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চালু হওয়ার কথা রয়েছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সাময়িক অর্থসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে আরও অভ্যস্ত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।তবে ঋণের টাকা হাতে পাওয়া যাবে না। এটি শুধু অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়, ভ্রমণ, সরকারি ফি ও কর, ঋণ বা আমানতের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে এ অর্থ খরচ করা যাবে।প্রথম ধাপে ব্যাংকগুলো অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রমটি পরিচালনা করবে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নের পর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নিয়মিতভাবে সেবা চালুর সুযোগ থাকবে।ঋণের অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ওয়ালেটে নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা বা বিল গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা পরিশোধ হবে।ঋণ পরিশোধের সময়সীমা রাখা হয়েছে ৭, ১৫ ও ৩০ দিন। প্রচলিত সুদের পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি নেবে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে মেয়াদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩, ৪ ও ৬ টাকা ফি নেওয়া যাবে।অন্যদিকে ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা সেবা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সুদ বা আগাম পরিশোধের জন্য কোনো বাড়তি ফি দিতে হবে না। তবে সময় পেরিয়ে গেলে জরিমানা নেওয়া যেতে পারে। এই জরিমানা দৈনিক প্রযোজ্য সেবা ফির সীমা অতিক্রম করতে পারবে না।পুরো প্রক্রিয়া গ্রাহক নিবন্ধন, ঋণ অনুমোদন, বিল পরিশোধ এবং টাকা ফেরত নেওয়া—ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করবে ব্যাংকগুলো। লেনদেনের নিরাপত্তায় ওটিপি, দুই ধাপের যাচাইসহ একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকবে।এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো এমএফএস প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সেবাদাতা ও ফিনটেক কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে। একই সঙ্গে ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ ও তথ্যনিরাপত্তা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নিয়ম মেনেই সেবাটি পরিচালনা করতে হবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, নতুন এ ব্যবস্থা একদিকে স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন মেটাবে, অন্যদিকে দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের পরিমাণ আরও বাড়াবে।

ছোট খরচে ডিজিটাল ঋণের নতুন সুবিধা, মিলবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে টানা তিন দফা কমার পর আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এবার এক ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ এখন বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকায়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে। ফলে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সারা দেশে এই দরেই ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হওয়ার কথা।বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘোষিত স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই ক্রেতার কাছ থেকে এর বাইরে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত মজুরি দিতে হবে ক্রেতাকে।এদিকে স্বর্ণ ও রুপার গহনা পুরোনো দিয়ে নতুন নেওয়া কিংবা বেচাকেনার ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের দাম হিসাবের বাইরে থাকবে।পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই নতুন মূল্য কার্যকর থাকবে।

৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখন প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাকি অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকার কোনো একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের যেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার দরকার, সেটি হচ্ছে আমাদের ওভারঅল এক্সপোর্টের অ্যাবিলিটি বাড়ানো দরকার।’ রপ্তানি বাড়াতে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সহায়তা দেওয়া এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। যেসব খাত এখনও রপ্তানির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেগুলোকেও সেই পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের দিক থেকে কিছু বাধা থাকার পাশাপাশি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথাও সংসদে তুলে ধরেন মুক্তাদির। তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে আমাদের রপ্তানি অধিকতর বৃদ্ধি করা যায় ভারতের ক্ষেত্রে। ভারত থেকে বেশি আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আমদানির বড় অংশ সরকার নয়, বেসরকারি খাত করে। ব্যবসায়ীরা যে উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক কম দামে পণ্য পান, সেখান থেকেই আমদানি করেন। তিনি বলেন, সুতরাং উৎস হিসেবে যদিও এখানে ভারত একটি দেশের ক্ষেত্রেই ব্যবধানটা এত বেশি, কিন্তু যারা আমদানি করেন, তারা তাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই সেখান থেকে আমদানি করেন। বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৩১৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৭১৬ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৩০ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার যানবাহন (টেম্পু, অটোরিকশা ইত্যাদি) (এইচএস হেডিং ৮৭.০৩-এর সংশ্লিষ্ট সব এইচএস কোড) আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ অনুযায়ী আমদানিনিষিদ্ধ। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদন শিল্পকে সহায়তার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream