ফেব্রুয়ারির কুয়াশা তখনো পুরো কাটেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে অনুষ্ঠিত হলো বহুল আলোচিত গণভোট—জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আয়োজন। ভোটের দিন পেরিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সচিব বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করলেন। তিনি জানালেন, সারা দেশে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি, আর ‘না’ ভোট ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
সেদিন রাতেই গেজেট প্রকাশ করা হলো। সেখানে দেখা গেল ভিন্ন এক চিত্র। গেজেটে বলা হলো, মোট ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে বাতিল ভোট ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি, ফলে মোট বৈধ ভোট দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি। বৈধ ভোটের হিসাবে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ ভোট, আর ‘না’ পেয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ ভোট।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয়নি। আসনভিত্তিক ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে গরমিল নিয়ে খবর ছাপা হতে থাকে। সংখ্যার অমিল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে জনমনে। অবশেষে ফলাফল প্রকাশের ১৩ দিন পর নির্বাচন কমিশন সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে।
২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা সেই সংশোধিত গেজেটে সই করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। সেখানে জানানো হয়, মোট প্রদত্ত ভোট আগের ঘোষণার চেয়ে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬ কম। নতুন হিসাবে মোট ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। বাতিল ভোট বেড়ে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬। ফলে মোট বৈধ ভোট দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১।
সংশোধিত ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট কমে হয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০, আর ‘না’ ভোট দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১।
ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সংশোধন পর্যন্ত এই ১৩ দিনের ব্যবধানে সংখ্যার অঙ্ক কেবল বদলায়নি, বদলেছে আলোচনার সুরও। গণভোটের ফলাফল তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়—এটি হয়ে উঠেছে প্রশ্ন, ব্যাখ্যা আর সংশোধনের এক চলমান কাহিনি।

