যুক্তরাজ্যের নিউপোর্ট শহরে শিশুদের ব্যবহার করে মাদক পাচারকারী একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যদের মোট প্রায় ৫৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
গোয়েন্ট পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে এমন একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে, যারা প্রায় ৫০ লক্ষ পাউন্ড মূল্যের ক্র্যাক কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ আনুমানিক ৭০ থেকে ৭৫ কোটি টাকা।
এই চক্রটি নিউপোর্টজুড়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ‘ড্রাগ রানার’ হিসেবে ব্যবহার করত, যা আদালতের মতে মামলার সবচেয়ে গুরুতর দিকগুলোর একটি।
কার্ডিফ ক্রাউন কোর্ট-এ শুনানিতে জানানো হয়, চক্রটি প্রায় ১২ মাস ধরে সক্রিয় ছিল এবং তাদের মাদক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে প্রায় ৮০০টি ফোন নম্বর যুক্ত ছিল।
মামলার প্রধান আসামি ৩৭ বছর বয়সী জেক্কাম আলী এই চক্রে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ২৭ বছর বয়সী আজিম আহমেদ, যিনি চক্রের নগদ অর্থ বহনকারী হিসেবে কাজ করতেন, তার কাছ থেকে ৮০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ১ কোটি ১০ থেকে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা) নগদ অর্থ, হেরোইন ও ৭০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়। তাকে মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রের অপরাধে আট বছর আট মাস এবং অর্থ পাচারের জন্য আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
মোহাম্মদ বুটাকে ১১ বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতে বলা হয়, তার বাড়ি নিউপোর্টে মাদক মজুত ও সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
আসজাদ আলিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, কারণ তার বাড়ি থেকে একটি হাইড্রোলিক প্রেস উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে, কনর বিলকে ছয় বছর এবং অ্যান্টনি কারুয়ানাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় জড়িত সারা চ্যান্টকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তা দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ১২ মাসের নজরদারি ও গোপন অভিযানের পর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ভোরের আগে নিউপোর্টজুড়ে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

